তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ক্যানেলগুলোতে বুধবার রাত থেকে সেচের পানি দেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে কমান্ড এলাকায় কৃষকরা বোরো চাষে মাঠে নেমে পড়েছেন। সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন তিস্তার সুবিধাভোগী চাষিরা। তারা বলছেন, পানি সঠিকভাবে পাওয়া গেলে লাখো কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। ফলাবে সোনালি ফসল।
তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট বন্ধ রেখে সেচ ক্যানেলে নদীর পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে এবার ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। লালমনিরহাট জেলার দোয়ানি, নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর পর্যন্ত সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়। তিস্তা সেচ কমান্ড এলাকার সেচ খালে পানি পেয়ে কৃষকরা চারা রোপণে নেমে পড়তে দেখা যায়। চাষি আফজাল বলেন, বৃহস্পতিবার জমিতে পানি পেয়েছি, এবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছি, পানি সঠিকমতো পেলে ভালো ফলন হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় জানান, এবার ২০২৫ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্পের রবি মৌসুমের বোরো ধান উৎপাদনে সেচ লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর।
বাপাউবোর উত্তরাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, এ প্রকল্প বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতার আংশিক ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ১৩টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম চলছে।
নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে।