নিয়মের তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুরের যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মিত এসব ভাটায় দেদারে পোড়ানো হয় কাঠ। ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ইটভাটা ১৪০টি। এর মধ্যে রামগতিতে ৫২, সদরে ৫০, কমলনগরে ১৬, রামগঞ্জে ১৮ ও রায়পুরে চারটি। ইটভাটার মধ্যে ৭৮টি গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধভাবে। আর সব ভাটায়ই নিয়ম ভেঙে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেঁষে রয়েছে একাধিক ভাটা। বৈধ-অবৈধ ভাটার মালিকরা মিলেমিশে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাওয়াই ইটভাটার একাধিক মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি হাওয়াই ভাটা করতে দেড়-দুই কোটি টাকা লাগে। বছরপ্রতি ৪-৫ লাখ টাকা ভ্যাট ট্যাক্স দিতে হয়। বাংলা ভাটা মালিকদের কিছুই প্রয়োজন হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা চালাচ্ছেন। যথাযথ নিয়ম মানলে ভাটা থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়সহ পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ভালো হতো মত তাদের। সচেতন নাগরিক কমিটি, (সনাক) লক্ষ্মীপুরের সভাপতি জেড এম ফারুকী বলেন, ইটভাটা স্থাপনে কীভাবে পরিবেশের ছাড়পত্র পায় খতিয়ে দেখা দরকার। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমি বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জরিমানাসহ ভাটা বন্ধ করা হচ্ছে। যেসব ভাটা প্রসাশন বন্ধ করে দিয়েছে সেগুলো পুনরায় কেউ চালু করলে দ্বিগুণ জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কাজ করছে। এরপরও কেউ চালু রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিন, লক্ষ্মীপুর সদরের চররুহিতা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষিজমি ধ্বংস করে স্থাপিত হয়েছে বাংলা চিমনির অবৈধ ইটভাটা। ভাটা এলাকায় গাছ চিড়াতে করাতকলও স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন পুড়ছে শত শত গাছ। গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভাটার আগুনের উত্তাপ আর নির্গত গ্যাসে আশপাশের জমির ফসল লালছে হয়ে গেছে। অল্প দূরত্বে আশপাশে রয়েছে আরও তিনটি ইটভাটা। ইট তৈরির জন্য ভাটার পাশেই কৃষিজমির উপরিভাগ থেকে মাটি সংগ্রহ করছেন ১০-১৫ জন শ্রমিক। মাটি টানতে স্থানীয় সড়কে চলছে ১৫-২০টি অবৈধ পাহাড় ট্রলি। এতে এলাকার মানুষ যেন অসহায় হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আধা কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উটেছে এসব ভাটা। ভাটায় কাঠ পোড়ানো আর ফসলি জমির মাটি কাটার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। এতে উর্বরতা হারাচ্ছে জমি। প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যেও।