ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কেশুরবাড়ি এলাকার তাঁতপল্লী। এক সময়ে এখানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে শোনা যেত তাঁত কলের খট-খট শব্দ। পরিবারের সবাই মিলেই সুতা দিয়ে বানাতেন কম্বল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য। অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন এ পেশা। বাপ-দাদার পেশা আজও যারা ধরে রেখেছেন তারা ভালো নেই।
কেশুরবাড়ি এলাকার ৫০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। অনেকে আগে শাড়ি-লুঙ্গি তৈরি করলেও বর্তমানে শুধু কম্বল বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই দুই-তিনটি তাঁত রয়েছে। এর কোনোটি চাকাওয়ালা, কোনোটি বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি।
বাজারে নিত্য নতুন পণ্য আসায় দিন দিন কমছে তাঁতশিল্পীদের কদর। অন্যদিকে চড়া সুতার বাজার। ফলে প্রতি বছর লোকসান গুনছেন তাঁতিরা। এক সময় কম্বল কিনতে পাইকাররা তাঁতপল্লীতে ভিড় করলেও এখন তাদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। তাঁত কারিগর আম্বিয়া, জয়নুল ও আমজাদ জানান, জীবন বাঁচানোর তাগিদে ধরে রাখতে হয়েছে এ শিল্প। অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ এ কাজে আর সংসার চলে না। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প টিকিয়ে রাখতে ও তাঁতিদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারিভাবে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কীভাবে এ শিল্প ধরে রাখা যায় ভাবছি।