স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষুধি গুণে ভরপুর মাশরুম। নিয়মিত মাশরুম খেলে ডায়বেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরের কোলেস্টরেল কমিয়ে দেয়। হেপাটাইটিস বি ও জন্ডিস প্রতিরোধ করে। কিন্তু খাদ্য অভ্যাস না থাকার কারণে মাশরুমের প্রসার নেই।
শনিবার বরিশাল নগরীতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে নগরীর কাশিপুরে বীজ উৎপাদন খামারের হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএইর পরিকল্পনা প্রকল্প, বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক (প্রকল্প বাস্তবায়ন) ড. শাখাওয়াত হোসেন শরীফ, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্যহ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
বক্তারা বলেন, বেকার যুবক-যুবতী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য মাশরুম উপযোগী। কারণ মাশরুম চাষের জন্য উর্বর জমি প্রয়োজন হয় না। অল্প জমিতে অনেক মাশরুম চাষ করা যায়। কোনো কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ অর্গানিক সবজি হলো মাশরুম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝালকাঠির উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবীর হোসেন পাটোয়ারী, ডিএই বরিশালের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোসাম্মৎ মরিয়ম, বরিশাল হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. অলিউল আলম, জাহাংগীর হোসেন মানিক প্রমুখ।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা এবং কৃষক মিলে দেড় শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল বিভাগে সরকারিভাবে ২২ জন মাশরুম চাষি রয়েছেন। পটুয়াখালীর মাশরুম উদ্যোক্তা অতিউর রহমান মিলন মাশরুম দিয়ে তৈরি আচার, জুস, স্যুপ, দাতের মাজনসহ বিভিন্ন পণ্য কর্মশালায় উপস্থাপন ও বিক্রি করেন। মাশরুম খামারিরা প্রসার বাড়ানোর জন্য মেলা আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই