রাজধানীতে আরও দুটি মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন ও এমআরটি লাইন-১ রুটের পরিষেবা লাইন স্থানান্তর কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মেট্রোরেলের দুই রুটে অর্থাৎ গুলশান ও এয়ারপোর্ট-বাড্ডা সড়ক এবং নতুন করে গুলশান এলাকায় তীব্র যানজট শুরু হয়েছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর।
জানা যায়, মেট্রোরেল লাইন-১ এর নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে এয়ারপোর্ট-বাড্ডা সড়কে পরিষেবা লাইন স্থানান্তর কাজ শুরু হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড্ডা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের কাজকে কেন্দ্র করে চলছে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়াসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রাথমিক পর্যায়ে বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, যমুনা ফিউচার পার্ক ও বাড্ডা এলাকায় চলছে ইউটিলিটি স্থানান্তর। এরপর এসব স্থানে নির্মাণ করা হবে ভূগর্ভস্থ স্টেশন। পরে ধাপে ধাপে কমলাপুর আর কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত চলবে স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ মেট্রোর টিউবের কাজ। তবে মেট্রোর প্রাথমিক ধাপের খোঁড়াখুঁড়িতেই সড়কের উভয় পাশে গাড়ি চলছে এক লেন ধরে। এতেই বিমানবন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট। ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়ক ব্যবহারকারীরা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেল-১ ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ বিমানবন্দর রুটে ১২টি স্টেশন এবং ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড পূর্বাচল রুটে একটি ভূগর্ভস্থ স্টশনসহ ৯টি স্টেশন থাকবে। বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য পূর্বাচল রুটের ৯টি স্টেশনের মধ্যে ৭টি এলিভেটেড এবং দুটি (নর্দ্দা ও নতুন বাজার) ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে।
এমআরটি-১ প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁঞা বলেন, বিমানবন্দর রুটেই বাংলাদেশের প্রথম পাতাল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হচ্ছে। এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণকাজ ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৮৮.৭১ একর ভূমিতে নির্মিতব্য এমআরটি লাইন-১ এর ডিপোর ভূমি উন্নয়নের জন্য কাজ ইতোমধ্যে ৮৭ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পাতাল মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) মূল নির্মাণকাজ অর্থাৎ টানেল ও পাতাল স্টেশনগুলো নির্মাণে মোট চারটি আন্ডারগ্রাউন্ড কন্ট্র্যাক্ট প্যাকেজের দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে গত রবিবার থেকে গুলশান-২-এ চলছে এমআরটি-৫ নর্দার্ন রুটের পরিষেবা লাইন স্থানান্তর কাজ। এতে গুলশান এলাকায় যানজট দেখা দিয়েছে। তবে এই যানজট নিরসনে গুলশান এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (রুট-৫ নর্দার্ন রুট) পরিচালক মো. আফতাব হোসেন খানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি-৫ নর্দার্ন রুটে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার অংশ হবে মাটির নিচ দিয়ে; মাটির ওপর দিয়ে যাবে সাড়ে ছয় কিলোমিটার। মাটির ওপর দিয়ে হবে হেমায়েতপুর থেকে বলিয়ারপুর, বিল আমালিয়া ও আমিনবাজার পর্যন্ত মেট্রো লাইন। আর গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ এবং নতুন বাজার স্টেশনগুলো হবে ভূগর্ভস্থ। এর বাইরে হবে মাটির ওপরে ভাটারা স্টেশনটি। ১০টি প্যাকেজে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর আওতায় হেমায়েতপুর ডিপোর উন্নয়নকাজ প্রায় ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি প্যাকেজগুলোর দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।