সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় মায়াল টেলিস্কোপে স্থাপিত ‘ডার্ক এনার্জি স্পেক্ট্রোস্কপি ইন্সট্রুমেন্ট’ ( ডিইএসআই)-এর এক গবেষণায় পাওয়া গেছে বিস্ময়কর তথ্য। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণে মুখ্য ভূমিকা রাখা ডার্ক এনার্জি হয়তো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে—অর্থাৎ এটি আর স্থির বা ‘কনস্ট্যান্ট’ নাও থাকতে পারে।
গবেষক দল ডিইএসআই দিয়ে মহাবিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় থ্রি-ডি মানচিত্র তৈরি করেছে, যেখানে ১.৫ কোটি গ্যালাক্সির অবস্থান নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক গ্যালাক্সির আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ১১ বিলিয়ন বছর।
তারা যে কৌশলটি ব্যবহার করেছেন, তাকে বলা হয় “বারিওন অ্যাকুস্টিক অসসিলেশন”। এর মাধ্যমে তারা সুপারনোভা ও প্রাথমিক মহাবিশ্বের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখেছেন, ডার্ক এনার্জির শক্তি সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে।
এটি সত্যি হলে, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ΛCDM) মডেল’—এ বড় ধরনের সংশোধন আনতে হবে। এর মানে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ চিরকাল চলবে না, বরং এক সময় থেমে গিয়ে আবার সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে—যাকে বলা হয় ‘বিগ ক্রাঞ্চ’।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় হয়নি। বিষয়টি প্রমাণ করতে আরও বহু স্বাধীন গবেষণা ও তথ্যের প্রয়োজন। যদিও এই সম্ভাবনা বিজ্ঞানের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল