রংপুরের বদরগঞ্জে একটি দোকানঘরকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামে একজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সদর রুমের ইনচার্জ সেলিম মিয়া। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষের পর বদরগঞ্জ পৌর শহর উত্তাল হয়ে ওঠে। রংপুর-বদরগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে জেলা বিএনপি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা ইসতিয়াক বাবুর কাছ থেকে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ না হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে দোকানঘরটি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি দোকানঘর ছেড়ে না দেওয়ায় মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক দিন আগে ভাড়াটিয়ার দোকান ভাঙচুর করে তাকে বের করে দেয়। এ নিয়ে গতকাল জাহিদুল ইসলাম তার ভাড়া নেওয়া দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন। কিন্তু মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দোকান মালিক ইসতিয়াক বাবুর পক্ষে সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিকের প্রায় দুই শতাধিক লোকজন মানববন্ধনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচার মাইক ভেঙে দেওয়ায় মানববন্ধনের আয়োজন ভেস্তে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ভাড়াটিয়া জাহিদুল ইসলামের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের নেতৃত্বেও প্রায় দুই শতাধিক লোকজন এলে তাদের দুইপক্ষের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার সময় বদরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় সংঘর্ষকারীরা। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, লাভলু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো কাগজ পাইনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা টহল দেওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।