ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনা এখন এক সংকটপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার আন্তরিকতা দেখানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ব্রাসেলসে ন্যাটো মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রুবিও বলেন, আমরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বুঝতে পারব রাশিয়া আসলেই শান্তি চায় কি না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, হয়তো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশল হিসেবে সময়ক্ষেপণ করছেন যাতে সামরিকভাবে সুবিধা নেওয়া যায়।
রুবিও আরও বলেন, আলোচনার কথা বলার সময় শেষ। যদি রাশিয়া পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটবে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া শান্তির শর্ত হিসেবে ক্রিমিয়াকে তাদের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি, দখলকৃত চারটি অঞ্চলের দাবি এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার নিশ্চয়তা চাইছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করছেন, রাশিয়ার পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি, অপহৃত শিশুদের ফেরত এবং পশ্চিমাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলো ইউক্রেনের পাশে থাকছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সামরিক নেতারা কিয়েভ সফরে গিয়ে শান্তিচুক্তি কার্যকর রাখতে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করেছেন। জেলেনস্কির মতে, স্থল, আকাশ ও জলপথে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।
এদিকে মার্কো রুবিও ন্যাটো সদস্যদের সামরিক বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানান। যদিও পরে তিনি বলেন, এটা লক্ষ্য মাত্রা, ধীরে ধীরে সে পথে যেতে হবে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। উত্তরে রুবিও বলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসী নিজেরাই স্বাধীনতার কথা বলছে, আমরা বলিনি।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল