সৌরজগতের ষষ্ঠ গ্রহ শনি তার সুবিশাল ও চোখধাঁধানো বলয়ের জন্য পরিচিত। বরফ, ধূলিকণা ও পাথরের টুকরো দিয়ে গঠিত এই বলয় যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। এই সপ্তাহে এক বিরল মহাজাগতিক কারণে বলয়টি অদৃশ্য হয়ে যাবে! তবে আতঙ্কের কিছু নেই, এটি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে না। বরং এক ধরণের দৃষ্টিভ্রমের (optical illusion) কারণে কিছুদিনের জন্য এটি আমাদের চোখে পড়বে না।
শনির বলয় অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণ পৃথিবী ও শনির কক্ষপথের বিশেষ এক সংযোগ। শনি তার কক্ষপথে ২৬.৭ ডিগ্রি হেলে রয়েছে, আর এই কক্ষচক্রের কারণে প্রতি ১৩-১৫ বছর পর এমন একটা সময় আসে, যখন তার বলয় আমাদের দৃষ্টিতে এক সরলরেখায় চলে আসে। ফলে দূর থেকে সেটি প্রায় অদৃশ্য মনে হয়।
এই মহাজাগতিক ঘটনা ২৩ মার্চ, ২০২৫ থেকে শুরু হবে এবং কয়েকদিন স্থায়ী থাকবে। বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেও একই ঘটনা ঘটবে। তবে এরপর ধীরে ধীরে বলয় আবার স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং ২০৩২ সালের মধ্যে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে।
শনির বলয়কে বোঝার জন্য এক সহজ উপমা হলো – একটি কাগজের পাতাকে একদম পাশ থেকে দেখলে যেমন সেটি প্রায় অদৃশ্য মনে হয়, ঠিক তেমনই শনির বলয়ও এক নির্দিষ্ট কোণে চলে আসার ফলে আমাদের চোখে পড়বে না। তবে শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে এটি এখনও কিছুটা ধরা পড়বে।
শনির বলয়ের উৎপত্তি নিয়ে এখনও বিজ্ঞানীদের মাঝে নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন, এটি কোনো উল্কা বা ধ্বংসপ্রাপ্ত চন্দ্রের অংশ যা শনির অভিকর্ষ শক্তির কারণে বলয় আকার নিয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, এটি গ্রহটির গঠনের সময়ের বেঁচে থাকা উপাদান, যা প্রায় চার বিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল।
বলয়টি মূলত বরফের কণা, পাথরের টুকরো ও মহাকাশীয় ধূলিকণা দিয়ে তৈরি। এগুলোর আকার হতে পারে একদম বালুকণার মতো ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বিশাল বাস বা বাড়ির সমান বড়!নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০৩৮ ও ২০৩৯ সালে একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটবে। ফলে মহাকাশপ্রেমীরা আবারও শনির বলয় অদৃশ্য হওয়ার দৃশ্য দেখতে পারবেন।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল