ইনিংসের শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়লেন আকাশ দিপ। এই আউটে আইপিএলের দেড় যুগের পথচলায় লেখা হলো নতুন ইতিহাস। ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রথমবারের মতো ম্যাচে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন কোনো অধিনায়ক।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এই অনন্য কীর্তি গড়েন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক পান্ডিয়া। ম্যাচে চার ওভারে ৩৬ রানে দিয়ে তার শিকার ৫ উইকেট। আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে এর আগে ম্যাচে ৪টি করে উইকেট ছিল চারজনের- শেন ওয়ার্ন, অনিল কুম্বলে, জেপি দুমিনি ও ইউভরাজ সিং। এর মধ্যে কুম্বলে এই স্বাদ পান দুই দফায়।
২০০৯ আসরে জোহানেসবার্গে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে কুম্বলে ৪ উইকেট নেন ১৬ রানে। বিস্ময়করভাবে পরের আসরে মুম্বাইয়ে একই দলের হয়ে একই দলের বিপক্ষে আবারও ১৬ রানেই ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি! এতদিন কোনো অধিনায়কের সেরা বোলিং ছিল এই দুটিই।
২০১০ আসরে নাগপুরে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে ২১ রানে ৪ উইকেট নেন রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক ওয়ার্ন। পরের আসরে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ব্যাট হাতে অপরাজিত ফিফটির পর হাত ঘুরিয়ে ২৯ রানে ৪ উইকেট নেন তখনকার দিল্লি ডেয়ারডেভিলস অধিনায়ক যুবরাজ সিং। এই দলের অধিনায়ক হিসেবেই ২০১৫ আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে দুমিনির শিকার ছিল ১৭ রানে ৪ উইকেট।
তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে এবার নতুন চূড়ায় উঠলেন পান্ডিয়া। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন ভারতের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদে ভারতের হয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ রানে ৪ উইকেট ছিল তার আগের সেরা বোলিং। আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় কুম্বলেকে ছুঁয়ে ফেললেন পান্ডিয়া, দুইজনেরই উইকেট ৩০টি করে। ৫৭ উইকেট নিয়ে তাদের ওপরে আছেন কেবল শেন ওয়ার্ন।
লক্ষ্ণৌতে এই ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেন পান্ডিয়া। প্রথমবার বোলিংয়ে আসেন তিনি নবম ওভারে। এই ওভারে স্লোয়ার ডেলিভারিতে নিকোলাস পুরানকে ফিরিয়ে তার শিকার ধরা শুরু। প্রথম ৮ ওভারে লক্ষ্ণৌ ১ উইকেটে ৮৮ রান তুলে ফেললেও, পান্ডিয়া ওই ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। নিজের পরের ওভারে প্রথম বলে ছক্কা হজম করলেও, আরেকটি স্লোয়ারে লক্ষ্ণৌর অধিনায়ক রিশাভ পান্তকে বিদায় করেন তিনি। আবার বোলিংয়ে ফেরেন তিনি অষ্টাদশ ওভারে। এবার ফিরিয়ে দেন ফিফটি করা এইডেন মার্করামকে (৩৮ বলে ৫৩)।
শেষ ওভারে তার প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পর টানা ছক্কা ও চার মারেন ডেভিড মিলার। চতুর্থ বলে স্লোয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে প্রতিশোধ নেন পান্ডিয়া। পরের বলে আকাশকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা, সেটা না হলেও তার অর্জন কম কিসে!
চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেলেন পান্ডিয়া। এর আগে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্ক।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ