ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে আল আমিন (৩২) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের পুটিয়া সীমান্তের ২০৫০ নম্বর পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আল আমিন পুটিয়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল কাদের। আল আমিনের লাশ গতকাল বিকালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ৬০ বিজিবি। নিহত আল আমিনের পিতা সুলতান মিয়া জানান, তার চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে আল আমিন ছিল তৃতীয় সন্তান। সে খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। তাদের বাড়ি থেকে সীমান্ত ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত। শুক্রবার সন্ধ্যায় গরু রশি দিয়ে বাঁধার সময় একটি গরু ছুটে দৌড়ে চলে যায় সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে। ওখান থেকে গরুটি আনতে যায় আল আমিন। ভারতীয় শূন্যরেখায় গেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের সদস্যরা তাকে গুলি করে। সে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বিএসএফ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে নিয়ে যায় ভারতে। সেখানে একটি হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যায় আল আমিন-এমনটাই খবর পায় তারা। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নির্বাক হয়ে গেছেন নিহতের মা, পরিবারে চলছে মাতম। তার লাশ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে রয়েছে। ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী খাদলা গ্রামে বিয়ে করেছিল আল আমিন। তার লাশ ফিরে পেতে ও তার নিরপরাধ সন্তানকে হত্যার বিচার দাবি করেন আল আমিনের মা।
নিহতের স্ত্রী তারিন আক্তার বলেন, তাদের বিয়ের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। তার গর্ভে দুই মাসের অনাগত সন্তান। কী হবে এ অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ। বর্তমান সরকারের কাছে হত্যার বিচার দাবি করেন এবং স্বামীর লাশ ফেরত চান তিনি। ৬০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে তাদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আল আমিন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল বিএসএফ। তার মারা যাওয়ার খবরটি সকালে জানিয়েছে বিএসএফ। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। লাশ ফেরত দিতে পতাকা বৈঠকের জন্য তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ থেকে সময় পাওয়ার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ আনা হবে।