আজমল হুদা মিঠু। অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক-পরিবেশক, সংগীত পরিচালক-গীতিকার-কণ্ঠশিল্পী। ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক-বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষ আজমল হুদা মিঠু। চলচ্চিত্রের রাজ্যে একসময় তিনি ছিলেন অলিখিত রাজা। চলচ্চিত্রশিল্পে তার প্রতাপ-প্রতিপত্তি ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত। চলচ্চিত্রের এই সফল মানুষ ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আজমল হুদা মিঠুর জন্ম ১৩ এপ্রিল ১৯৪৩ সালে বগুড়ায়। লেখাপড়া করেছেন বগুড়া মিশনারি স্কুল, বগুড়া জিলা স্কুল ও বগুড়া আজিজুল হক কলেজে। প্রথম অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে যুক্ত হন ১৯৬৮ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘বাল্যবন্ধু’ ছবিতে। এ ছাড়াও আনাড়ি, পায়েল, বাবলু, কসম উসক ওয়াক্ত কি (নায়ক), স্মৃতিটুকু থাক, ঢেউয়ের পর ঢেউ, রং বদলায়, পিচ ঢালা পথ, ধীরে বহে মেঘনা (নায়ক), সংগ্রাম, রাতের পর দিন, বিজলী, চ্যালেঞ্জ, দোস্তী, আক্রোশ, আমিই ওস্তাদ, এরই নাম দোস্তীসহ অসংখ্য ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। টেলিভিশনের অনেক নাটকেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি আজমল হুদা মিঠু চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক-পরিবেশক, সংগীত পরিচালক, কাহিনি-চিত্রনাট্যকার-গীতিকার-কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও সমধিক পরিচিতি পান।
টিভি-বেতারের নাট্য প্রযোজক ও সুরকারও ছিলেন আজমল হুদা মিঠু। তার কাহিনি-চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়- দোস্তী, আমিই ওস্তাদ (সংগীত পরিচালনাও), চোর ডাকাত পুলিশ, অপরাধ জগতের রাজা, ঝন্টু মন্টু দুই ভাই নির্মিত হয়। তার প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে- ধীরে বহে মেঘনা, বাদশা, দোস্তী, কালো গোলাপ, অগ্নিপরীক্ষা, নিয়তির খেলা, মিলন তারা (কাহিনি-সংগীত পরিচালনাও), আমিই ওস্তাদ, চোর ডাকাত পুলিশ, সংসার সীমান্তে, দুখিনী বধূ, শয়তান জাদুকর, অপরাধ জগতের রাজা, এরই নাম দোস্তী, ঝন্টু মন্টু দুই ভাই অন্যতম। তার প্রযোজনা সংস্থার নাম ‘সালমা কথাচিত্র’ ও ‘জয় বিজয় চলচ্চিত্র’। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘জল্লাদের দরবার’ নাটকের সংগঠক ও অভিনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজমল হুদা মিঠু, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঐতিহাসিক নাটক ‘জল্লাদের দরবার’-এ অভিনয় করে খ্যাতিমান অভিনেতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।