জয়পুরহাটের কালাইয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বেড়েছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। আতঙ্কে নির্ঘুম দিন কাটছে অনেক গ্রামের বাসিন্দাদের। একের পর এক এসব অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না অভিযোগ রয়েছে। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ছয় মাস ধরে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে রাতভর লাঠিসোঁটা ও টর্চলাইট হাতে চলছে পর্যায়ক্রমে পাহারা।
জানা যায়, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি থেকে বাঁচতে কালাই উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাহারাদার কমিটি গঠন হয়েছে। প্রতি রাতে টিম লিডারের নেতৃত্বে ৮-১০ জন গ্রামের অলি-গলিসহ প্রবেশদ্বারে পাহারা দেন। সপ্তাহে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন পুরুষ সদস্যকে পাহারার দায়িত্বে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ গণ্যমান্যরাও এ কাজে যুক্ত রয়েছেন। সড়াইল গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য ৮-১০ জনের কয়েকটি দল করা হয়েছে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে লিখে রাখা হয় তার নাম-ঠিকানা। এমনকি কিছু গ্রামে রাতে অচেনা ব্যক্তির চলাচল সীমিত করতে বেড়া পর্যন্তও বসানো হয়েছে। গ্রামবাসী জানান, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলাকায় বেশ কয়েক স্থানে দিনে-রাতে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য টাকা ছিনতাই, সংঘবদ্ধ দলের ডাকাতি, গাছ কেটে মহাসড়কে যানবাহনে গণডাকাতি, গরু চুরি, গভীর-অগভীর নলকূপের ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি হচ্ছে হরহামেশা। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চুরি, পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে তল্লাশির নামে বাড়িতে ঢুকে মালামাল লুটের ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন সময়ে সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের চেহারা দেখা গেলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না অভিযোগ গ্রামবাসীরা। চরবাখরা গ্রামের জালাল উদ্দিন বলেন, নিজেদের যানমাল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। সারাদিন মাঠে খেটে রাতে ঘুমাতে পারছি না। ডাকাত আতঙ্কে জেগে থাকতে হয়। এটাত পুলিশের দায়িত্ব, আমাদের নয়। থুপসারা গ্রামের টিম লিডার তাজুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ায় নিজেদেরই জানমালের পাহারা দিতে হচ্ছে। চোর-ডাকাতরা আমাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। নওয়াপাড়া গ্রামের টিম লিডার আবদুল গোফ্ফার ফকির বলেন, কয়েক মাসে একের পর এক ডাকাতি, ছিনতাই আর চুরির ঘটনা ঘটছে। অনেকেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন কোনো লাভ হয়নি। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, কিছু অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।