জেলায় ৩০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ২০০ পদ শূন্য। প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। বিঘ্ন ঘটে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। এতে একরকম ঝিমিয়ে পড়েছে গোটা জেলার প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম। মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, সদর উপজেলায় ১০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫, গাংনীর ১৬২টির মধ্যে ২৫ ও মুজিবনগরের ৩৮টির মধ্যে ১৫টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ছাড়া শূন্য প্রায় এক শ সহকারী শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সরকারি মিটিং, প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত ছুটির কারণে আরও দেড় শ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করাতে পারেন না। এ হিসেবে জেলায় সহকারী শিক্ষকের ঘাটতি থাকে বছরজুড়ে প্রায় আড়াই শ। এ কারণে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না অনেক বিদ্যালয়ে। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য প্রতিষ্ঠানের কোনোটি সামলাতে হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে; আবার কোনোটি চলিত দায়িত্ব দিয়ে। প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের হিমশিম অবস্থা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে। অভিভাবকরা বলছেন, প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। ছাত্রছাত্রীরা বাইরে ঘোরাফেরা করে। হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলফাজ হোসেন বলেন, ‘সাত শিক্ষকের পদ থাকলেও আছেন চারজন। এর মধ্যে তিনি আবার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন ২০১৮ সাল থেকে। বিভিন্ন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপে ক্লাস নিতে পারেন না। বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস সংযুক্ত হওয়ায় তিনজন শিক্ষক একসঙ্গে তিনটি ক্লাস নেন। অন্য তিনটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা ক্লাসের বাইরে খেলাধুলায় মত্ত থাকে।’ শহীদ আশরাফুল হাফিজ খান দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন শাহানাজ বলেন, ‘শিক্ষকদের ক্লাসের পাশাপাশি বিভিন্ন কারিকুলামভুক্ত কাজ করতে হয়। বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের সব দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের। কিন্তু অতিরিক্ত ক্লাস যিনি নেন তিনি এ বিষয়ের দায়ভার নেওয়ার চাপ কমাতে ক্লাস নিতে অনীহা দেখান।’ শিক্ষানুরাগী মিজানুর রহমান বলেন, ‘একটি শিশুর মেধা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিত রচনা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই এসব শূন্যপদ পূরণ হবে। বর্তমানে শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম চলমান। সে ক্ষেত্রে বদলির মাধ্যমেও অনেক শিক্ষক পদ পূরণ হবে। এ ছাড়া কোনো বিদ্যালয়ের একাধিক পদ শূন্য হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’