দিনাজপুরের ফুলবাড়ী হয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীতে সেতু হয়নি ৫৪ বছরেও। এর পূর্ব প্রান্তে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পলিপাড়া ও পশ্চিম প্রান্তে হরহরিয়ারপাড়া। একটি সেতুর অভাবে এখানকার নদীর দুই পাড়ের ১৬ গ্রামের শিশু-বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, কৃষকসহ হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে যানবহনে চলাচলে তাদের ঘুরতে হচ্ছে ৭ কিলোমিটারের বেশি পথ। এতে অর্থ ও সময় দুইই নষ্ট হয়। আট বছর আগে এ দুর্দশা লাঘবে এলাকাবাসী নদীতে ছয়টি রড-সিমেন্টের পিলার দিয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে অর্থাভাবে সেতুটির বাকি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে পিলারের ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। রোদ-বৃষ্টিতে বাঁশ-কাঠের খুঁটিসহ এর পাটাতনগুলো পচে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। কিছু কিছু কাঠ পচে নষ্ট হয়ে ভেঙেও গেছে। তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাড় বাঁধানোসহ সাতটি সিমেন্টের পিলার দেওয়া আছে। তার ওপরে দেওয়া রয়েছে বাঁশ ও কাঠের তৈরি পাটাতন। তবে এর অনেক স্থানে ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা জানান, সেখানে স্থায়ী একটি সেতু না থাকায় নদীর পূর্বপাড়ের পলিপাড়া, চকপলিপাড়া, হিন্দুপাড়া, চকপাড়া, ডাড়ারপাড়, চন্ডিপুর, দুর্গাপুর, বারাইপাড়া ও বৈরাগীপাড়াবাসীকে জরুরি প্রয়োজনে ও ইউনিয়ন পরিষদে কাজের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ছাড়া নদীর পশ্চিম পাড়ের দৌলতপুর এবং হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়সহ এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য মাদিলাহাট ও খয়েরবাড়ি হাটে যেতে পাড়ি দিতে হচ্ছে সাত কিলোমিটার। এলাকাবাসীর অর্থ ও সময় দুইই নষ্ট হচ্ছে। একইভাবে নদীর পশ্চিম পাড়ের হরহরিয়াপাড়া, গোয়ালপাড়া, মধ্যমপাড়া, পানিকাটা, মন্ডলপাড়া, ডাঙ্গা, চেয়ারম্যানপাড়া ও কুশলপুর গ্রামবাসীকে পূর্ব পাড়ের পার্শ্ববর্তী বিরামপুর, নবাবগঞ্জ যেতে হলে ঘুরতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ। হরহরিয়ারপাড়া গ্রামের শমসের আলী, খয়েরবাড়ির রফিকুল ইসলাম, পূর্ব প্রান্তের স্বদেশ দাস বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ও রোদ-বৃষ্টিতে বাঁশ-কাঠের খুঁটিসহ পাটাতনগুলো পচে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মন্ডল মাস্টার বলেন, আর মাত্র ১০ লাখ টাকা খরচ করলেই সেতুটির ওপরের পাটাতনসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করা যেত, তা আর হয়ে উঠেনি।
উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখব। সেতুটির কাজ কোনো প্রকল্পের অর্থ দিয়ে করা না হলে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে সেতুর বাকি কাজ সম্পন্নের চেষ্টা করা হবে।