কক্সবাজার-চটগ্রাম মহাসড়কের পাশে হাটবাজারের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন এ মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও চালকরা। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এক বছর আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশের উচ্চ আদালত। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। সওজ অধিদপ্তর পরিচালিত রোড সেফটি অডিট রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দেড় শ কিলোমিটারের মধ্যে ৩৭টি স্থানে হাটবাজার, অবকাঠামো ও ১৮০টি প্রতিবন্ধক রয়েছে। তার ওপর চার লেনের সড়ক না হওয়ায় যানজট ও দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনউদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আইন অনুযায়ী সড়ক থেকে ১০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা থাকবে না। রামু ও চকরিয়ায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট-বাজারের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। এসব হাট-বাজারে আসা ছোট ছোট যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে তীব্র আকার ধারণ করছে যানজট। ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, উপজেলা পরিষদ গেট, লিংক রোড়, খরুলিয়া, কলঘর, পানের ছড়া, ঈদগাঁও, খুটাখালী, ডুলাহাজারা, মালুমঘাট, চিরিঙ্গা, বরইতলী, হারবাং লোহাগাড়ার চুনতী বাজার, আধুনগর, আমিরাবাদ মোটর স্টেশন, পদুয়া তেওয়ারী হাট, ঠাকুরদিঘী বাজার, সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা, কেরানীহাট, তেমুহনী, মৌলভীর দোকান, চন্দনাইশের দোহাজারী, বাগিচার হাট, গাছবাড়িয়া কলেজ গেট, খান হাট, রওশন হাট, পটিয়ার চক্রশালা, আমজুরহাট, বাদামতল, শান্তির হাট, মইজ্যার টেক ও নতুন সেতু টোল প্লাজায় ব্যাপক যানজট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব স্থানে রয়েছে হাটবাজার বা বাসস্টেশন।
নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এক বছর আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশের উচ্চ আদালত। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
সড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাটবাজার কিংবা স্থায়ী বা অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা ২০২১ সালের মহাসড়ক আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য অনূর্ধ্ব দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের অভিযোগ, অপসারণ করা হলেও পুনরায় এ ধরনের স্থাপনা গড়ে ওঠে।