আদালতের নির্দেশনা মেনে কক্সবাজার সৈকত-সংলগ্ন ঝুপড়ি ঘরগুলো প্রশাসন ভেঙে দেয়। কয়েকদিন পর আবার গড়ে ওঠে এসব অবৈধ স্থাপনা। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তার সুফল মেলে না। দখলদারির কারণে বিনষ্ট হচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্য। বিরক্ত পর্র্যটকরা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পর্যটন সেল) তানভীর হোসেন জানান, সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা ও আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রশাসন কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রয়োজনে যে কোনো সময় আবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক রিপন বলেন, গত বছর বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার এসেছিলাম। সে সময় সৈকতের যে পরিবেশ ছিল এখন তা নেই। অবৈধ স্থাপনার কারণে সৌন্দর্যহানি ঘটেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সুগন্ধা পয়েন্টের বেলাভূমিতে গড়ে তোলা হয় ১৫-২০টি দোকান। এ পয়েন্টের সড়ক, ফুটপাত ও বালিয়াড়িতে বসানো হয়েছে ২০০ জন ভ্রাম্যমাণ হকার। কলাতলী পয়েন্টের ‘সি ক্রাউন হোটেলের’ সামনে তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি দোকান। মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতের বেলাভূমিতে রেস্তোরাঁসহ অন্তত ৩০টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রশাসন কয়েক দফায় এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবার গড়ে তোলে। কক্সবাজারের সৈকত এলাকা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে। গেজেট অনুযায়ী সৈকতের বেলাভূমিতে স্থাপনা নিষিদ্ধ। আইন না মানায় ২০১৭ সালে রিট করা হয়। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সৈকতের জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ উল্লেখ করে কোনো স্থাপনা করা যাবে না নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। সম্প্রতি স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকদিন পর আবার নির্মাণ শুরু হয়।