নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে পড়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কার্যক্রম। দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় এ স্থলবন্দরে রয়েছে তিন দেশের ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের অসন্তোষ। এসব কারণে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীসহ বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল, ভুটানের সঙ্গে চলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে এ বন্দর দিয়ে সরকারের রাজস্বের মূল উৎস ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শ্রমিকদের বকশিশসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর দিয়ে পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দেন। তাঁদের অভিযোগ, অন্য বন্দরের তুলনায় এ বন্দরের শ্রমিকরা অতিরিক্ত বকশিশ আদায় করেন। টনপ্রতি ৬০ টাকা বকশিশ আদায় করা হয়; যা অন্য বন্দরে ৩০ টাকার বেশি নয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পাথর রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সাধারণ শ্রমিক ও এ দেশের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সংকটে। দুই মাস পাথর রপ্তানি বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যস্থতায় বকশিশ ৪৫ টাকা করা হয়। তবে এখনো স্বাভাবিক হয়নি পাথর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। এদিকে ভারত থেকে পাথর আমদানি শুরু হলেও ভুটান থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের করিডর ব্যবহার করে ফুলবাড়ী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাথর রপ্তানি করে ভুটান। এতে তাদের স্থলবন্দর স্লট চার্জ দিতে হয় না। অন্যদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের স্লট চার্জ প্রদান করে পাথর রপ্তানি করতে হয়। ফলে ভুটান অল্প দামে পাথর রপ্তানি করতে পারে। এজন্য ভারতের পাথরের চাহিদা কমে গেছে। এরপর ভুটানের পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে ভুটান থেকে পাথর আমদানি করা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকসহ বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিকরা বলছেন, অনেক শ্রমিক এখন আমদানি-রপ্তানিকারক হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা এখনো শ্রমিক নাম ভাঙিয়ে টাকা ভাগাভাগি করছেন। তাঁরা শ্রমিকের কাজ না করে ভাড়া করা শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে টাকা নিচ্ছেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। জানা গেছে, দুটি শ্রমিক ইউনিয়নের ৪৫৮ জন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত। বাংলাবান্ধা আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোহেল রানা মানিক প্রধান জানান, শ্রমিকদের বকশিশের বিষয়টি অনেকটা সমাধান হয়েছে। ভারত এবং ভুটানের ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে ভুটান থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ বন্দরের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, নানা সংকটের কারণে আমদানি কমেছে। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কাস্টমসসূত্রে জানা গেছে গত ছয় বছরে এ বন্দর দিয়ে রাজস্ব এসেছে ৩১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বন্দরে সংকট নিরসন হলে রাজস্ব দ্বিগুণ হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের রাজস্ব বিভাগের কোনো কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বলেন, ‘বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি বন্দর। সংকট রয়েছে। সংকট উত্তরণে আমরা সচেষ্ট আছি।’