মানিকগঞ্জের যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে দেদার তোলা হচ্ছে বালু। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি ও বাড়িঘর। হুমকিতে আছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের দুটি টাওয়ারও। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী অভিযোগ দিয়েও পাননি প্রতিকার। পাওয়ার গ্রিড মেইনটেনেন্স ডিভিশনের শিবালয় কার্যালয়ের প্রকৌশলী গিয়াস মাহামুদ জানান, ইস্ট ওয়েস্ট ইন্টার কানেকশন-১ এর অধীন যমুনা নদীর ওপর দিয়ে নেওয়া বিদ্যুতের তার সংযোগের টাওয়ারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। তিনি বলেন, টাওয়ারের কাছাকাছি থেকে মাটি বা বালু তোলা নিষেধ রয়েছে। কতটা কাছে মাটি কাটা হচ্ছে সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলাল হোসেন জানান, নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে ইজারাদার বালু তুলছেন। এ কারণে দুই দফায় তাদের সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, শিবালয় উপজেলায় দক্ষিণ তেওতা মৌজার আরএস ৪৪টি দাগে যমুনা নদী সিকস্থি মোট ৯ দশমিক ৫০৮১ একর জমি নিয়ে বালুমহালের চৌহদ্দি। বাংলা ১৪৩১ সালের জন্য ১ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় এই বালুমহালের ইজারা নেয় মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ। ৩০ মে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর প্রোপাইটার আবুল বাশার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর একাধিক মামলায় আসামি হয়ে তিনি পলাতক থাকলেও বালু তোলা থেমে থাকেনি। বরং আরও জোরেসোরে বালু তোলা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইস্ট ওয়েস্ট ইন্টার কানেকশন-১ এর বিদ্যুৎ সংযোগ ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের কয়েক শ গজের মধ্যে তিনটি ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে বাল্কহেড ভড়া হচ্ছে। বালুভর্তি বাল্কহেডগুলো চলে যেতেই ড্রেজারের পাশে খালি বাল্কহেড অবস্থান নিচ্ছে। বিদ্যুৎ টাওয়ারের একদম পাশ দিয়ে যাতায়াত করে ওভারলোড বাল্কহেড। যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টাওয়ারে ধাক্কা লাগতে পারে। ড্রেজার এবং বাল্কহেড কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো সারা দেননি। জানা যায়, ইজারার চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ তেওতা মৌজার মাত্র ৯ একর জমিতে রয়েছে বালুমহাল। বালু কাটা হচ্ছে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে আলোকদিয়া চরের কাছে বাতেনের পাড়ায়। এই এলাকায়ই রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইন্টার কানেকশনের দুটি টাওয়ার।
চুক্তি অনুযায়ী মহালের ইজারাদার আবুল বাশারের বালু তোলার কথা। আওয়ামী লীগের এই নেতা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে পলাতক। চেষ্টা করেও বাশার বা তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।