টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণের কাজে ব্যাপক ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একটি ফ্লাইওভার, দুটি আন্ডারপাস ও একটি সার্ভিস লেন নির্মাণে এখনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এসব কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ জেলার মানুষের যোগাযোগের সহজ মাধ্যমে পরিণত হয় যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়ক। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প হাতে নেয়। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পর মির্জাপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করা হয়। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদের সময় যা বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে যায়। এরপর এলেঙ্গা থেকে সেতুমুখী সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়; যা এখন চলমান। ২০২২ সালে কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে জুন মাসে কাজটি শেষ করার কথা ছিল। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প (প্যাকেজ-৫) ফেইজ-২ এর অধীনে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড। প্রায় ৬০১ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পের ১৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার মহাসড়কে একটি ফ্লাইওভার, আটটি ব্রিজ, দশটি কালভার্ট ও দুটি আন্ডারপাস এবং একটি সার্ভিস লেন নির্মাণ করার কথা। এ প্রকল্পে একটি ফ্লাইওভার, আটটি ব্রিজ, দশটি কালভার্ট ও দুটি আন্ডারপাস এবং একটি সার্ভিস লেন নির্মাণের কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজে অহেতুক সময়ক্ষেপণ না করলে অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। মহাসড়কে সেতুমুখী ও এলেঙ্গামুখী অংশে প্রায় ২ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হলেও এখন সাড়ে ১১ কিলোমিটারের কাজ চলছে। এখনো পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার, কয়েকটি ব্রিজ, দুটি আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেনের কাজ ধরাই হয়নি। তাদের কাজে বেশ গাফিলতি রয়েছে। মহাসড়ক সংলগ্ন জোকারচরের শফিকুল ইসলাম, সল্লার মামুন, হাতিয়া গ্রামের বশির, আনালিয়াবাড়ির নুরুল হকসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, মহাসড়কের আশপাশের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির শিকার হয়। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে মহাসড়কে গাড়ির চাপ ব্যাপক বেড়ে যায়। প্রতিবার ঈদের সময় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মারাত্মক যানজটে পড়ে। বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। মহাসড়ক সংলগ্ন ধলাটেংগর গ্রামের ওমর গাজীর ছেলে শরীফ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ করছে খুবই ধীরগতিতে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. রবিউল আওয়াল দাবি করেন, কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে কাজ প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কাজের গুণগত মান বা স্থায়িত্বের দিক দিয়ে কোনো গাফিলতি নেই। স্থানীয় যুবকরা কাজে ব্যবহৃত বালুর গুণগত মান নিয়ে আপত্তি তোলায় তাদের নিজস্ব পরীক্ষাগারে বালুসহ প্রতিটি নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথভাবে কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেতু কর্তৃপক্ষের কনসালট্যান্ট প্রকৌশলী পুলক দাস জানান, মহাসড়কের কাজে যে মোটা বালু ব্যবহার করা হয় কংক্রিটের জন্য এটার একটা পোর্ট আছে। যেটা ২ পয়েন্ট ২-এর ওপর লাগে- সেটি তারা নিয়মিত দেখভাল করে থাকেন। পোর্ট ২ পয়েন্ট ২ -এর নিচে থাকলে সেটি ব্যবহার করা হয় না। তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বালুর কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। টেস্টে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হলে ব্যবহার করা হবে। অন্যথায় ফেরত দেওয়া হবে। সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, তারা কাজ সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন। কাজের গুণগত মান নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তবে তাদের কাজে ধীরগতি রয়েছে।