তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কাহারোলসহ দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে পিঁয়াজ আবাদে ব্যস্ত চাষিরা। দেশি পিঁয়াজের গুণগতমান ভালো, দামও বেশি। তাই পিঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন চাষিরা। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা বাধা হতে পারেনি পিঁয়াজ চাষিদের। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিঁয়াজ খেত পরিচর্যায় কাজ করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকার মাঠে দেখা যায়, পিঁয়াজ চাষিরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পিঁয়াজের চারা তুলছেন, কেউবা আঁটি বাঁধছেন এবং পরিচর্যা করছেন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পিঁয়াজ চাষের মহোৎসব দেখা যায়।
মুকুন্দপুর ইউপির জগন্নাথপুর, মহদিপুর গ্রামের পিঁয়াজ চারা বিক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম ও আবদুল কাদের বলেন, তারা এবার ১২ ও ২০ শতক জমির বীজতলায় পাঁচ কেজি বীজ বপন করেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। শনিবার কাহারোল হাটে পিঁয়াজের চারা বিক্রি করেছেন প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মতো।
চাষি মো. আবদুল হামিদ জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে পিঁয়াজের চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করি পিঁয়াজের ভালো ফলন হবে। এ বছর শ্রমিক, সার, ওষুধ, বীজের দাম বেশি, তাই খরচও অনেক বেড়েছে। ফলন ভালো না পেলে অনেক পিঁয়াজ চাষি লোকসানের আশঙ্কাও করছেন।
কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, পিঁয়াজ উৎপাদন ভালো যাতে হয়, সে জন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এবার জমিতে পিঁয়াজ আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ১৭৫ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ আবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।