বগুড়ায় যমুনা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নাব্য সংকট। পানি কমায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার নৌরুটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। নদী পারাপার ও কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে হচ্ছে ভোগান্তি। নদীর কোথাও হাঁটু আবার কোথাও রয়েছে কোমরসমান পানি। কিছু কিছু স্থান দিয়ে অনেকে হেঁটেই নদী পার হয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে। সারিয়াকান্দির ইউএনও শাহরিয়ার রহমান বলেন, এ উপজেলায় একটি নদীবন্দর করার প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যমুনায় শুরু হবে নদীতে ড্রেজিং। কৃত্রিমভাবে সারিয়াকান্দিতে কিছু নৌরুট চালু করা হবে। এতে ভোগান্তির অবসান ঘটবে। কালীতলা নৌঘাটের মাঝি গোলাম রব্বানী জানান, যমুনায় পানি না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ নৌঘাট। ইজারায় নেওয়া ঘাটে কয়েক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার আপেল মাহমুদ লাভলু জানান, শুষ্ক মৌসুমে যমুনায় পানি সংকট দেখা যায়। তখন নৌরুট বন্ধ থাকে। হেঁটেই নদী পারাপার হতে হয় চরবাসীদের। চরে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় বছরে ৬ মাসের বেশি সময় যমুনা নদীর নাব্য সংকট থাকে। এ ছাড়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেছে। নাব্য সংকটে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া ও নিজবলাইল খেয়াঘাট এবং চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নৌঘাট বন্ধ হয়েছে। এসব নৌরুটে নৌকাও চলাচল করছে না। নৌকার পরিবর্তে কৃষক ঘোড়ার গাড়িতে বেশি ভাড়া দিয়ে পণ্য পরিবহন করছেন। কেউ ঘারে কৃষিপণ্য ও পশুখাদ্য নিয়ে হেঁটে পার হচ্ছেন নদী। নাব্য সংকটে পুরো যমুনাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। এসব চরে চলন্ত নৌকা আটকে যাওয়া এখন নিত্য ঘটনা।
যমুনায় পানি না থাকায় নদীর বিশালজুড়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচর। সৃষ্টি হয়েছে গোচারণ ভূমিও। গোচারণ ভূমিতে চরবাসী গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল পালন করছেন। নাব্য সংকটে উপজেলার ব্যস্ততম সারিয়াকান্দি মাদারগঞ্জ নৌরুটও বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। পরে এ নৌরুট খনন করা হলে নৌকা কালিতলা নৌঘাট দিয়ে চলাচল করছে। এ নৌরুটে যখন নৌকা চলে মনে হয় কোনো ড্রেন দিয়ে যাচ্ছে।