চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতরে তৈরি হয়েছে ঢাকা-কমলাপুর আইসিডিগামী কনটেইনারের জট। একইভাবে কমলাপুর আইসিডি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী কনটেইনার ডেলিভারিতেও দেখা দিয়েছে ধীরগতি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, রেলপথে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় এ অবস্থা। এতে ব্যাহত হচ্ছে বন্দর ও কমলাপুর আইসিডির স্বাভাবিক কার্যক্রম। আগে তিন জোড়া ট্রেন চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা কমলাপুর আইসিডিতে (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) পণ্য পরিবহন করত। সেখানে এখন চলছে দুই জোড়া। কখনো কখনো তা একটিতে নেমে আসে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিন সংকটের কারণে কনটেইনার ট্রেন কমাতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হওয়া কনটেইনারের ৯৬ শতাংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে আনা-নেওয়া হয়। বাকি ৩ শতাংশ রেলপথে ও ১ শতাংশের কম নৌপথে পরিবহন হয়। সাধারণত বছরে ১ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার আনা-নেওয়া হয় রেলপথে। আগে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০টি কনটেইনার ট্রেনযোগে ডেলিভারি হতো। এখন তা নেমে এসেছে অর্ধেকে। ফলে জাহাজ থেকে খালাস নেওয়ার পরও ডেলিভারি নিতে না পারায় জমছে কনটেইনারের স্তূপ।
আমদানিকারকরা জানান, ট্রেনের শিডিউল পেতে ১৫-১৬ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। এ সময় কনটেইনার পড়ে থাকছে বন্দরের ভিতরে। যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি নিতে না পারায় নানা হয়রানি ও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে ভোক্তা পর্যায়ে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম বলেন, আগে তিন জোড়া ট্রেন বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহন করত। এখন আছে দুই জোড়া। তাও নিয়মিত নয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একটি সূত্র জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিন-সংকট চলছে। কনটেইনারবাহী ট্রেনে ইঞ্জিন কমিয়ে তেলবাহী ট্রেন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য প্রতিদিন ৬টি ইঞ্জিন পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল পরিবহনের জন্য পাঠাতে হচ্ছে তিনটি। বাকি তিনটি কনটেইনারের জন্য রাখা হয়। কোনো কোনোদিন খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্য সেখান থেকে একটি ইঞ্জিন দেওয়া হলে কনটেইনার ট্রেনের জন্য মেলে দুটি।
এদিকে, জট কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বন্দর ও কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে আমদানিকারকদের নোটিস দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকাস্থ কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনার ডেলিভারিতে অত্যন্ত ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনো কোনো আমদানিকারক তাদের কনটেইনার ২১ দিন বা তারও বেশি সময় ডেলিভারি না নিয়ে বন্দর অভ্যন্তর এবং আইসিডিতে সংরক্ষণ করছেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুর আইসিডির স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।