সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় রবিবার (৯ মার্চ) দিনব্যাপী বিক্ষোভ-আন্দোলনে উত্তাল ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে অংশ নেয়। দুপুর দেড়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।
এতে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা খানম বলেন, 'একজন নারী হিসেবে ধর্ষণ-নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার। মাগুরা ও গাজীপুরে সম্প্রতি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এখন কেউই নিরাপদ নয়।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। নতুবা আমরা শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যাবো না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাবো আমরা।'

একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ এর ব্যানারে একদল শিক্ষক মানববন্ধন করেন। এতে নৃবিজ্ঞান, চারুকলা ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী সংহতি জানিয়ে অংশ নেয়। এসময় তারা ক্যাম্পাসে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলও করেন।
বক্তারা ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিন বিকেল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে মুখে লাল পতাকা বেঁধে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মৌন মিছিল করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের অনুসারীরা।
ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ গঠন
রবিবার দুপুরে 'ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ' শীর্ষক প্লাটফর্মের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নারী শিক্ষার্থী। এছাড়াও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মঞ্চ থেকে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
কমিটিতে মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন সৈয়দা মেহের আফরোজ শাঁওলি, সহ-মুখপাত্র ফাহমিদা ফাইজা ও মালিহা নামলাহ।
এ প্রসঙ্গে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের মুখপাত্র সৈয়দা মেহের আফরোজ শাঁওলি বলেন, 'গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আমাদের এরকম একটি জায়গায় দাঁড়াতে হচ্ছে এটা আসলে লজ্জাজনক। তবুও এ লজ্জা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি ঘটে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনোভাবেই সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অনতিবিলম্বে ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা