বরিশাল নগরীতে শিশুদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি পার্কের রাইডগুলো মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় রাইডগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে নষ্ট রাইডগুলোতে চড়তে শিশুরা হাজির হচ্ছেন এ পার্কে। তবুও রাইডগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই সিটি করপোরেশনের।
২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন সিটি মেয়র মরহুম আহসান হাবিব কামাল নগরীর বাঁন্দ রোডের বেলস পার্কের পাশে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকায় নির্মিত এ পার্কের উদ্বোধন করেন। পার্কটিতে শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন ধরনের দোলনাসহ ১৪টি খেলনা, ৭৫ শিশুর আসন বিন্যাস, একটি খেলার মাঠ, ১৪টি বসার বেঞ্চ, ১০টি ছোট-বড় ফুলের বাগান, একটি বাথরুম, প্রায় ৪০০ অভিভাবকের আসন ব্যবস্থা, একটি বিশ্রামাগার, বাচ্চাদের জন্য দুটি খাবার ঘর রয়েছে। সীমানা প্রাচীরসহ পুরো পার্কে ৭০টি নানা রঙের বৈদ্যুতিক বাতিও দেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পার্কে শিশু ও অভিভাবকরা আসেন। মেয়র আহসান হাবিব কামাল থাকাকালীন বেশ ভালো রক্ষণাবেক্ষণ হয়। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হওয়ার পর পার্কে আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। তদারকি একেবারেই কমিয়ে দেয় সিটি করপোরেশন। এর পর থেকে যার যেমন ইচ্ছা তেমনি করে রাইডগুলো ব্যবহার করছে। বর্তমানে রাইডগুলো শিশুদের জন্য মারণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দোলনাসহ অন্যান্য লোহার রাইড মরিচা ধরে ভেঙে গেছে। প্লাস্টিকের রাইডগুলো ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বেঞ্চগুলোতে বসার অবস্থা নেই। ফুলের বাগান নেই। পার্কের মধ্যে পড়ে আছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি। কোনো বাতিই জ্বলে না। গভীর রাতে সেখানে মাদকসেবীরা আড্ডা দেয়। অভিভাবকদের দাবি, পার্কটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হোক। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসানউদ্দিন রোমেল বলেন, আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।