মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান-উজ জামান বলেন, নিজের একটি বাসস্থান নিশ্চিত করা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। একজন মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এগুলো যেমন অনিবার্য ঠিক একইভাবে বাসস্থান নিশ্চিতও অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ব্যাংক। ব্যাংক হোম লোনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে, যেখানে মাসিক কিস্তিভিত্তিক হোম লোনের মাধ্যমে অল্প সময়ে নিজস্ব একটি বাসস্থান গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে মিডল্যান্ড ব্যাংক অফার করে ‘আমার বাড়ি’ এবং ‘এনআরবি হোম লোন’। এরই সঙ্গে যারা ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাদের জন্য মিডল্যান্ড ব্যাংকে আছে সালাম ইসলামি ব্যাংকিংয়ের আওতায় সালাম হোম ফাইন্যান্স।
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিজস্ব একটি বাসস্থানের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে ব্যাংক চেষ্টা করে আর্থিকভাবে সুযোগ সৃষ্টি করার। হোম লোনের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে, স্বল্প ইন্টারেস্ট অথবা মুনাফার হারে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দিয়ে থাকে ব্যাংক।
এ ছাড়াও ব্যাংক সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোম লোন প্রদান, দ্রুত ঋণ অনুমোদন ও প্রসেসিং সম্পন্ন করা, প্রাথমিক ডাউন পেমেন্টের হার কমানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করে, ব্যাংক মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন সমাজে বসবাস করি যেখানে একেকজনের চাহিদা ও সামর্থ্য একেকরকম। একজনের আর্থিক চাহিদা যদি অল্পতেই মিটে যায় আরেকজনের আর্থিক চাহিদা খুব অল্পতে নাও মিটতে পারে, যা স্বাভাবিক। ব্যাংক সব সময় চেষ্টা করে নমনীয়তার সঙ্গে গ্রাহকদের সব ধরনের সমস্যার সমাধান দিতে; যেটা ব্যাংকের মূল দায়িত্ব। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আবাসন সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা উচিত হলেও সেক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও মাথায় রাখতে হবে, যার জন্য গ্রাহকের সামর্থ্যরে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমাদের ব্যাংক সব সময় চেষ্টা করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবাটাই দিতে। হোম লোন-এর ক্ষেত্রেও আমরা নমনীয় রিটার্ন হার রাখারই চেষ্টা করেছি, যার বর্তমান হার ১১.৭৫%। অতীতের কথা বিবেচনা করলে এটা অনেকটাই ঠিক যে শুধু হোম লোনই নয়, যে কোনো লোনের ক্ষেত্রেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং বিস্তারিত ডকুমেন্টেশনের জন্য লোন প্রসেসিংয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হতো এবং এ কারণে গ্রাহকদের মনে হতো তাদের অনেক বেশি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে যে শুধু ব্যাংক ভেদে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া দায়ী তা নয়, কিছু জমির মালিকানার নথিপত্র (ল্যান্ড ডকুমেন্টস) যা যথা সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহক দিতে পারে না। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কিছু অনুমোদনেরও প্রয়োজন থাকে, যা সময় ক্ষেপণের কারণ হিসেবে বিবেচিত। ব্যাংক সব ডকুমেন্ট নিশ্চিত না করে কখনোই লোন প্রদান করতে পারে না, যেহেতু এটার সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা যুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনার ডকুমেন্টের ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া ও ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল প্রযুক্তির সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও দ্রুত এবং সহজীকরণ হবে লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম খাত হলো আবাসন খাত। আমাদের দেশের অর্থনীতি এবং উন্নত জীবনযাত্রায় যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তি আবাসন ঋণের প্রতি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বেশি। কারণ সাধারণত গ্রাহকরা ব্যক্তি বাসস্থান নির্মাণ বা ক্রয়ের জন্য বেশি ঋণ গ্রহণ করেন। তবে যৌথ আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলোর আগ্রহ রয়েছে। কারণ এতে দেশের বৃহৎ আবাসন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংক আবাসন খাতে মোট ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ করে থাকে। এটি আমাদের ঋণ পোর্টফোলিওর একটি প্রধান খাত হিসেবে বিবেচিত হয়। আহসান-উজ জামান বলেন, আমাদের ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গাড়ি কেনার জন্য সহজ শর্তে কার লোন প্রদান করে। যেমন- নতুন গাড়ি কেনার পাশাপাশি আমরা ব্যবহৃত গাড়ি ক্রয় করার জন্যও গ্রাহককে ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকি। শুধু প্রচলিত ঋণই নয়, আমরা ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থাও রেখেছি আমাদের গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে। সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংক লোন দিতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে গাড়ির অবস্থা, বাজার মূল্য এবং গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে লোন নির্ধারিত হয়। আমাদের ব্যাংক ইতোমধ্যে গ্রাহকের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান শুরু করেছে, যাতে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও গ্রাহকরা সহজে ঋণ পেতে পারে।