৩১ বছর ধরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এনসিসি ব্যাংক। গ্রাহকদের নিজস্ব সুন্দর একটা বাসস্থান থাকার আকাক্সক্ষা পূরণে প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ঋণ প্রদান করছে ব্যাংকটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিসি ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : মানুষের প্রধানতম চাহিদার একটি হলো নিজস্ব বাসস্থান। এ বাসস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আপনার ব্যাংকের ভূমিকা কেমন?
এম. শামসুল আরেফিন : এনসিসি ব্যাংক ৩১ বছর ধরে গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টির সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। নানাবিধ আর্থিক পণ্য ও ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার প্রয়াস আমরা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তি-শ্রেণির গ্রাহকদের জীবনমান উন্নত করার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাদের পাশে থাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে এনসিসি ব্যাংক গ্রাহকদের নিজস্ব সুন্দর একটা বাসস্থান থাকার আকাক্সক্ষা পূরণে প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ঋণ প্রদান করছে। আমরা গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক শর্তে এবং দীর্ঘমেয়াদি সহজে পরিশোধযোগ্য কিস্তিভিত্তিক ঋণ দিয়ে থাকি। গ্রাহকের প্রয়োজন ও সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে আমাদের রয়েছে: এনসিসি হোম লোন নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজে এবং ক্রয়ের জন্য সুবিধাজনক শর্তে ঋণ, এনসিসি ব্যাংক হোম ইম্প্রুভমেন্ট লোন : বিদ্যমান বাড়ির সংস্কারে বা উন্নয়নের জন্য ঋণ এবং এনসিসি ব্যাংক আবাসন লোন : সেমি-পাকা, পাকা একতলা কংক্রিট ছাদবিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : নিজস্ব বাসস্থান তৈরিতে এনসিসি ব্যাংক কীভাবে মানুষের পাশে আছে?
এম. শামসুল আরেফিন : আমাদের হোম লোন প্রোডাক্টগুলো গ্রাহকদের নিজস্ব বাসস্থান তৈরি বা কেনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। একজন গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা এবং চাহিদা বিবেচনা করে আমরা ঋণ দিই। হোম লোনের ক্ষেত্রে আমরা ৩ থেকে ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড দিয়ে থাকি। হোম লোনের অধীনে আমরা আবাসন লোন প্রদান করে থাকি, যেখানে সেমি-পাকা ঘর তৈরি করতেও একজন গ্রাহক সুবিধাজনক শর্তে লোন নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমরা লোন দিই এবং ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা মাসিক ইনকাম থাকলে একজন গ্রাহক এ লোন গ্রহণ করতে পারবেন। যার ফলে নিম্ন আয়ের বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ যাদের এক খন্ড জমি আছে তারা তাদের সাধ্যের মধ্যে একটা বাড়ির মালিক হবেন এটা এখন স্বপ্ন নয়; সত্যি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ব্যাংকগুলোতে হোম লোন নিতে হলে অনেক বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ কতটুকু সঠিক?
এম. শামসুল আরেফিন : হোম লোন ব্যক্তি-শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য একটি বড় ঋণ সুবিধা। তবে এ লোনের জন্য একজন গ্রাহককে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন জামানত হিসেবে প্রদত্ত ঋণ সম্পত্তির মূল্যায়ন, ব্যাংকের আইনজ্ঞ কর্তৃক সম্পত্তির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র নিরীক্ষার ভিত্তিতে মালিকানা নিশ্চিতকরণ, সম্পত্তি মর্টগেজ করা ইত্যাদি। তারপর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে লোনের টাকা কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে উত্তোলন করতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্যান্য আনুষঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতাগুলো অনেক সময় গ্রাহকদের কাছে পরিপালন করা সহজবোধ হয় না বিধায় তারা অনেকেই এগুলো ঝামেলা মনে করেন। তবে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে প্রক্রিয়াগুলো আমরা সহজ, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য আমরা সচেষ্ট।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আবাসনের সঙ্গে গাড়ির চাহিদাও অনেক বেড়েছে মানুষের। গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আপনাদের ব্যাংক কীভাবে সহায়তা করে?
এম. শামসুল আরেফিন : বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে গাড়ি কেনার চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০১৫-২০২৪) দেশে গাড়ি বিক্রির হার প্রায় ৮-১০% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ২৫,০০০ নতুন গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটা সাধারণ মানের গাড়ি কেনা এখন অনেকের জন্যই কোনো বিলাসিতা নয়; বরং প্রয়োজন। তাই গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও আমাদের ব্যাংকের পলিসি অনুসরণ করে গ্রাহকদের সুবিধাজনক শর্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা গাড়ি কেনার জন্য লোন দিয়ে থাকি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : নতুন গাড়ি ছাড়া ব্যাংক ঋণ দিতে চায় না। বাজার বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলো সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি ক্রয়ে ঋণ দেওয়া কি সম্ভব?
এম. শামসুল আরেফিন : সাধারণভাবে ধরা হয় একটি গাড়ির ওয়্যার অ্যান্ড টিয়ার অনেক বেশি। ব্যাংকগুলো যেহেতু সর্বোচ্চ ছয় বছর মেয়াদে গাড়ি কেনার লোন দিয়ে থাকে; তাই নতুন বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার জন্যই ব্যাংকগুলো লোন দিতে আগ্রহী। তবে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে লোন দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে কিছু বিবেচ্য বিষয় রয়েছে- যেমন : গাড়ির নির্মাণ বছর কত এবং গাড়ির কন্ডিশন কী এবং গ্রাহককের তুলনামূলক স্বল্প মেয়াদে লোনের টাকা পরিশোধের সক্ষমতা আছে কি না ইত্যাদি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আবাসন ঋণ এবং গাড়ি ক্রয়ের ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার অনেক বেশি। এটা কতটুকু সঠিক?
এম. শামসুল আরেফিন : আমরা সর্বদা চেষ্টা করি সুদের হারকে বাজারের প্রতিযোগিতামূলকভাবে গ্রাহকদের জন্য সহনীয় ও বহনযোগ্য পর্যায়ে রাখতে। তবে এটি বাজার ও অন্যান্য কিছু নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল।