নাইকো দুর্নীতি মামলা যে সাজানো ছিল রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বুধবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া খালাস পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
কায়সার কামাল বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা জিইয়ে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর হলেও আদালত আজ বেগম খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়েছেন। আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো মামলা যে সাজানো ছিল খালাসের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।’
এর আগে, নাইকো দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াসহ আটজনকে খালাস দেন আদালত। এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। ওইদিন মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ছিল। আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা। মামলার প্রধান আসামি বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে হাজিরা দেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।
এরপর দুদকের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেন তারা। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি জানিয়ে তারা খালাসের প্রার্থনা করেন।
এর আগে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় ৬৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৯ জনের সাক্ষ্য হয়েছে। গত বছরের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত।
২০০৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলার বাকি আসামিরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
বিডি প্রতিদিন/কেএ