বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
হয়েছে। গতকাল বিকালে ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দলের এ শীর্ষনেতা বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাস করে বিএনপি। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি রেইনবো নেশন গড়তে চাই।’ সমাবেশে নিরাপদ দেশ গড়তে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে ভোটও চান তিনি।
ময়মনসিংহ টাউন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি তারেক রহমান ছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে দেশের সমতলে থাকা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশ উপলক্ষে নিজস্ব সংগীত পরিবেশন করা হয়। দেশের সব জাতিগোষ্ঠীকে একত্র করতেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ বিএনপির উদ্যোগে, ১২টি জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয় গতকাল। সমাবেশে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দাবি জানান নেতারা। সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবুল, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার, জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের ভাইস চেয়ারম্যান সুভাস চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৫ জন তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য পরিবেশন করেন। এ সময় তারেক রহমানকে বিভিন্ন সমতল জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উত্তরীয় ও উপহার প্রদান করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে নারীদের মাঝে ২৬টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
সমাবেশে দেশের সমতল অঞ্চলের ১২টি জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতা, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়। বরং বৈধভাবে বসবাসকারী সব জাতিগোষ্ঠীর। সব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর। পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কীভাবে আরও সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করবে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা চায়। পাহাড়-সমতলের উন্নয়নে ৩১ দফা রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তাদের নাগরিক সুবিধা সম্পর্কে সচেতন থাকলে কোনো অপশক্তি বিভ্রান্ত ছড়ানোর সুযোগ পাবে না। ধর্ম ভাষা দলমত যার যার, দেশ সবার, আমরা সবাই বাংলাদেশি। ৩১ দফায় গড়ে তুলব আগামীর বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি আমাদের আস্থা ও সম্মান রয়েছে। ভাষার বহুত্ব, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য ও ভিন্ন জাতির সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে জাতি, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি এটিই আমাদের অঙ্গীকার। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি অধিকার বাস্তবায়ন করবে।’
দেশকে মব ও অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি এবং মিত্র গণতন্ত্রপন্থি অংশীদারদের অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণ অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে অবশ্যই জয়ী হতে হবে। দেশকে অবশ্যই মবের শাসন এবং বর্তমান অস্থিরতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। তিনি দ্রুত এই বর্বরোচিত ও সহিংস ঘটনার তদন্ত দাবি করেন। তারেক রহমান নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বর্তমানে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর গণতান্ত্রিক উত্তরণের সময় অতিক্রম করছি, যার প্রথম ধাপ হলো জাতীয় নির্বাচন। আমাদের সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে আজ যা ঘটেছে, তেমন অস্থিতিশীলতামূলক ঘটনা যেন আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং আমাদের গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে।’ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি আমরা বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখতে চাই, তাহলে আমাদের মবের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত। আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত। কেবল গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতাবান করার এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হতে পারব।’