পূর্বাচলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিশাল এই এলাকা ঘিরে চারটি নতুন থানা ও বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি প্রস্তাব ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবে শুধু থানা নয়, ওই এলাকায় অবৈধ বিক্ষোভ-সমাবেশ প্রতিরোধে আলাদা দাঙ্গা দমন বিভাগও গঠন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নতুন যে চারটি থানা করা হচ্ছে, সেগুলোর নামকরণ করা হবে পূর্বাচল দক্ষিণ, পূর্বাচল উত্তর, পূর্বাচল কাঞ্চন ও পূর্বাচল সেন্ট্রাল থানা। দীর্ঘ সময় ধরে পূর্বাচল এলাকাটি বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার ভয়ে প্লট বরাদ্দ পাওয়াদের অনেকে বাড়ি তুলে সেখানে বসবাস করার সাহস পাচ্ছেন না।
এমন বাস্তবতায় থানাসহ বিবিধ নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা জোন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, “পূর্বাচল আবাসিক এলাকাটির নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এলাকাটি কয়েকটি থানা এলাকায় পড়েছে। ডিমার্কেশন (সীমানা নির্ধারণ) করার জন্য আমরা গৃহায়ণকে বলেছি।”
তিনি বলেন, “ওই এলাকা ঘিরে নতুন থানার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসবে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও আমরা কোনও প্রস্তাবনা পাইনি। অবশ্য তারা (পুলিশ) প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা জেনেছি।”
সূত্র মতে, গত জুলাই মাসে ডিএমপির দেওয়া প্রস্তাবে একটি নতুন অপরাধ বিভাগ, একটি গোয়েন্দা শাখা, একটি ট্রাফিক বিভাগ, একটি জনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা বিভাগ, একটি পরিবহন বিভাগ, একটি পুলিশ লাইন, দুটি অপরাধ জোন, চারটি ট্রাফিক জোন, চারটি থানা, পাঁচটি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৩০টি পুলিশ বক্স করার প্রস্তাব রয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, পূর্বাচলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (পূর্বাচল বিভাগ) নেতৃত্বে একটি অপরাধ বিভাগ গঠন করা হবে। যার আওতায় চারটি থানা, পাঁচটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৩০টি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে। প্রতিটি থানায় ১৩০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যার মধ্যে তিনজন ইন্সপেক্টর, ৪৩ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং ৩৫ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) থাকবেন।
প্রতিটি পুলিশ ফাঁড়িতে দু’জন এসআই ও চারজন এএসআইসহ মোট ২৯ জন সদস্য কাজ করবেন। আর প্রতিটি পুলিশ বক্সে একজন এসআই ও দু’জন এএসআইসহ মোট নয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (ডিটেকটিভ পূর্বাচল বিভাগ) নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা শাখা গঠিত হবে, যেখানে মোট ১৪১ জন সদস্য থাকবেন। যার মধ্যে রয়েছেন- একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), পাঁচজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি), দু’জন সহকারী কমিশনার (এসি), ১০ জন ইন্সপেক্টর, ২৮ জন এসআই, একজন সার্জন এবং ৫০ জন এএসআই।
ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) ইউনিট থেকে পূর্বাচলে জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের ক্ষেত্রে বিলম্ব হতে পারে এমন চিন্তা থেকে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন নিশ্চিত করতে পূর্বাচলে একটি পৃথক পিওএম ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ইউনিটে ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে দুই হাজার ৮৩৬ জন সদস্য কাজ করবেন। যার মধ্যে থাকবেন একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি), পাঁচজন সহকারী কমিশনার (এসি), ২৭ জন ইন্সপেক্টর, দুজন এসআই, ৮০ জন সশস্ত্র এসআই, চারজন এএসআই এবং ২০৭ জন এএসআই।
এছাড়া পূর্বাচলে পৃথক একটি পুলিশ লাইন্স স্থাপনের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা একজন ডিসির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এই ইউনিটে থাকবেন একজন এডিসি, একজন এসি, ২০ জন ইন্সপেক্টর, দু’জন এসআই, ৮০ জন সশস্ত্র এসআই এবং ১২৪ জন এএসআইসহ সর্বমোট দুই হাজার ৫১৯ জন পুলিশ সদস্য।
পূর্বাচলের কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ট্রাফিক বিভাগ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোনের অধীনে থাকবে চারটি ট্রাফিক জোন। এই বিভাগটি একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে, যাকে সহায়তা করবেন একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং পাঁচজন সহকারী কমিশনার (এসি)। মোট ৯৩৩ জন পুলিশ সদস্য এই বিভাগে নিয়োজিত থাকবেন। এর জন্য জনবলের পাশাপাশি যানবাহন, আবাসন, ওয়্যারলেস যোগাযোগ যন্ত্র এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।
বিডি প্রতিদিন/একেএ