চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক ও জমিদারি আভিজাত্যের প্রতীক ‘সাজ্জালেলার নাচঘর’ এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। চন্দনপুরার নাচঘর হিসেবেও এটি পরিচিত। দৃষ্টিনন্দন প্রাচীন স্থাপত্যরীতিতে তৈরি ভবনটি নয়নাভিরাম। নগরীর চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস অফিসের পাশেই ঐতিহাসিক এ ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায়। ঝরে পড়েছে ভবনের পলেস্তারা, নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা। কার্নিশে গজিয়েছে বটের চারা ও আগাছা।
জানা যায়, চন্দনপুরার এই ভবনটির ইতিহাস প্রায় ২৫৫ বছরের পুরোনো। এটি ১৭৭০ সালের দিকে নির্মিত। ধারণা করা হয়, ব্রিটিশদের আগমনের আগেই ভবনটির নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ভবনটিতে পর্তুগিজ শাসনামলের নির্মাণশৈলী লক্ষণীয়। জমিদার সাজ্জালেলা ছিলেন প্রথম প্রজন্মের জমিদার। চন্দনপুরা, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, নিউমার্কেট, বাকলিয়াসহ আশপাশের এলাকার জমিদারি ছিল তার হাতে। তার হাত ধরেই এই ভবন নির্মাণের সূচনা হয়। দুই তলাবিশিষ্ট এই ভবনটিতে আছে অতিথিদের অভ্যর্থনা কক্ষ, বিস্তৃত হলঘর ছাড়াও ১৪টি সুপরিসর কক্ষ- যা নাচ-গান এবং অতিথি আপ্যায়নের কাজে ব্যবহার হতো। বাইজিদের জন্য ছিল আলাদা সাজসজ্জার কক্ষ। এই ভবনের প্রতিটি দরজা, জানালা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে সুরের মূর্ছনা গোটা ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। জনশ্রুতি আছে, এখানে প্রতিদিন রাতভর প্রতিধ্বনিত হতো ঘুঙুরের শব্দ। জমিদার সাজ্জালেলার আমলে রাত হলেই এখানে জমে উঠত বাইজিদের নৃত্য। চলতো সংগীতানুষ্ঠানও। আর এই আসরকে ঘিরে অভিজাত শ্রেণির মানুষ মিলিত হতেন এখানে।
চট্টগ্রাম ইতিহাস ও সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান বলেন, প্রাচীন-দৃষ্টিনন্দন ভবনটিতে ফায়ার সার্ভিস নিজেদের জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এটি হলে ভবনটি ঐতিহাসিক হিসেবে সংরক্ষিত হবে। অন্যথায় প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে এটি সংরক্ষণের জন্য আবেদন করব। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভবনটি ফায়ার সার্ভিসের জাদুঘর গড়ার সিদ্ধান্ত আছে। তবে এ ব্যাপারে পরে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এটি আগে যেমন ছিল তেমনি আছে।