শুরু করেন তাসকিন আহমেদ। জয় উপহার দেন লিটন দাস। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে দুজনের অবদান শতভাগ। প্রথমে তাসকিন বোলিং করে বিধ্বস্ত করেন নেদারল্যান্ডসকে। এরপর হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক লিটন। ম্যাচ শেষ করেন দুই বছর পর সুযোগ পাওয়া সাইফ হাসান। ইনিংসের ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে বিক্রমজিত সিংকে টানা দুই ছক্কা মারেন সাইফ। ৩৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। যা দলটির বিপক্ষে বল হাতে রেখে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগেও ৮ উইকেটে জিতেছিল। সেবার জিতেছিল ১২ বল হাতে রেখে। আগামীকাল একই সময়ে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে।
দারুণ ছন্দে রয়েছেন ডান হাতি ফাস্ট বোলার তাসকিন। গতির সঙ্গে সুইং ও বাউন্সের অপূর্ব মিশেলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলেছেন। সিলেটে ১৮ মাস পর খেলছে বাংলাদেশ। দেড় বছর পর খেলতে নেমে টাইগার বোলাররা বিপর্যস্ত করেছেন নেদারল্যান্ডসের ব্যাটারদের। ২০ ওভারে বেঁধে ফেলেছেন ৮ উইকেটে ১৩৬ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দেশটির যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। সিলেট স্টেডিয়ামে স্কোরটি পঞ্চম সর্বনিম্ন। মাঠের সর্বনিম্ন স্কোর সংযুক্ত আরব আমিরাতের, ৯ উইকেটে ১১৬ রান। ২০১৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে করেছিল মরুরাজ্যটি। টিউলিপ ফুলের দেশকে ওভারপ্রতি ৬.৮০ স্ট্রাইক রেটে বেঁধে রাখার মূল কারিগর তাসকিন। ডানহাতি ফাস্ট বোলার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন। ৭৭ টি-২০ ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নেন তাসকিন। ম্যাচসেরা তাসকিনের স্পেল ৪-০-২৮-৪। এর আগে ২০২২ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে হোবার্টে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। এনিয়ে দুবার ডাচ্ বাহিনীর বিপক্ষে ৪ উইকেট নিলেন। ২০২৩ সালে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন চট্টগ্রামে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তার বোলিং স্পেল ছিল ১৬ রানে ৪ উইকেট।
তাসকিনের বিধ্বংসী বোলিংয়ের ম্যাচটি আবার আরও একজনের জন্য স্মরণীয়। সাইফ দুই বছর পর সুযোগ পেয়েই কাজে লাগান। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট নেন অফ স্পিনার। অবশ্য ওই ওভারে তার বলে একটি স্ট্যাম্পিং মিস করে লিটন। তিন নম্বর বোলার হিসেবে বোলিংয়ে এসে প্রথম ওভারের প্রথম বলে উইকেট নেন তাসকিন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাননি। তার দেখানো পথে মুস্তাফিজুর রহমান, সাইফরা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। সাইফ ২ ওভারের স্পেলে ১৮ রানের খরচে নেন ২ উইকেট। মুস্তাফিজ ১ উইকেট নেন ১৯ রানের খরচে। ৪ ওভারে তার স্পেলটি সবচেয়ে মিতব্যয়ী। স্পিনার শেখ মেহেদি নতুন বলে ওপেন করলেও উইকেট পাননি। তবে তার স্পেলটি যথেস্ট মিতব্যয়ী ৪-০-২১-০। শেষ ওভারে ১২ রান দেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। অথচ আগের ৩ ওভারে তিনি রান দিয়েছিলেন ১৮ রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তিনিই একটি মেডেন নেন। টাইগার বোলাররা নেদারল্যান্ডসের ইনিংসে ডট নেন ৫১টি। বাউন্ডারি দেন ১৩টি এবং ছক্কা দেন ৩টি। ম্যাচে দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচ নেন জাকের আলি অনিক।
সিলেটে প্রথম ইনিংসে ১৩৬ রান করে কোনো দল জয় পায়নি টি-২০ ম্যাচে। গতকালও জয় পায়নি নেদারল্যান্ডস। অধিনায়ক লিটন দাসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। যদিও টাইগার দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ তামিম ২৬ রানের ভিত দেন ২.৪ ওভারে। অবশ্য প্রথম ওভারেই ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৪ রান নেন পারভেজ। কিন্তু আউট হন ব্যক্তিগত ১৫ রানে। ৯ বলের ইনিংসটিতে ছিল ২টি চার ও একটি ছক্কা। পারভেজের বিদায়ের পর তানজিদ ও অধিনায়ক লিটন ৬৬ রান যোগ করেন ৩৯ বলে। পারভেজ ফুলটস বলে দলীয় ৯২ রানে সাজঘরে ফেরেন ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে। তিনি রান করেন ২৪ বলে ২ চারে ২৯। লিটন ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন ৬ চার ও ২ ছক্কায়। সাইফ অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। ১৯ বলের ইনিংসটিতে ৩ ছক্কায় ও এক চারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নেদারল্যান্ডস : ১৩৬/৮, ২০ ওভার
(ও’ডাউড ২৩, ভিক্রামজিৎ ৪, নিদামানুরু ২৬, এডওয়ার্ডস ১২, শারিজ ১৫, ক্রোস ১১, ক্লেইন ৯, প্রিঙ্গল ১৬*, আরিয়ান ১৩; মেহেদি ৪-০-২১-০, শরিফুল ৪-১-৩০-০, তাসকিন ৪-০-২৮-৪, মুস্তাফিজ ৪-০-১৯-১, রিশাদ ২-০-১৬-০, সাইফ ২-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ : ১৩৮/২, ১৩.৩ ওভার (পারভেজ ১৫, তানজিদ ২৯, লিটন ৫৪*, সাইফ ৩৬*; আরিয়ান ৩-০-৩০-১, ক্লেইন ২-০-২৬-০, ডোরাম ৩-০-২৩-০, ফন মিকেরেন ২-০-১৭-০, শারিজ ১-০-১২-০, প্রিঙ্গল ২-০-১৬-১, ভিক্রামজিৎ ০.৩-০-১৪-০)
ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তাসকিন আহমেদ