ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হেজাজ বিন আলিমকে পুলিশি হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে হেজাজকে মারধর করায় তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে হেজাজের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। হেজাজ বিন আলমের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর থানা এলাকায়। মৃত্যুর আগে রাজধানীর ধানমন্ডি শেরেবাংলা রোডের ৪৯/এ বাসায় থাকতেন তিনি। তার বাবার নাম শাহ আলম খান।
হেজাজের ভাই আবিদ বিন আলম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে কে বা কারা পিটিয়েছে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।’ ধানমন্ডিতে জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন।
এর আগে গত শনিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হেজাজ বিন আলিম (৩৭)। ঢাকা মেডিকেলের নেফ্রোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. রৌশন আহমেদের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ কাদের আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৫ মার্চ জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘নেফ্রোলজি’ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের ৯০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার ডান ও বাম ঊরুর পেছন দিয়ে নিতম্ব পর্যন্ত রক্ত জমাটের দাগ রয়েছে। পা সামান্য ফোলা। তার গলার ডান পাশে সিভি লাইন যা ক্যানোলা দিয়ে ব্যান্ডেজ করা। পিঠে রক্ত জমা লাল সাদা দাগ আছে ডান হাতের কবজির ওপরে ক্যানোলা এবং দুই হাতের কবজিতে হ্যান্ডকাফ লাগানোর দাগ আছে। বুক ও পেটের মাঝামাঝি পুরোনো দাগ, বুক পেট স্বাভাবিক।
তবে হেজাজের মামা হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত ১১ মার্চ ঝিগাতলার টালি অফিস রোড এলাকা থেকে হেজাজকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে যৌথ বাহিনী। ডাকাতির একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন পুলিশ আদালতে পাঠিয়ে দেয়। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর হেজাজকে ধানমন্ডির জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোররাতের দিকে তাকে ডিবি ওয়ারী বিভাগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, ‘হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তারের সময় আমরা ডিবিকে বলেছিলাম, আপনারা এখানেই রেখে চিকিৎসা করান। কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে তাকে অসুস্থ অবস্থায় এখান থেকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করে। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হেজাজ।’ এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবি ওয়ারী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের সঙ্গে কথা বলতে হবে, এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ ছিল। নামের বিভ্রাটের কারণে পরে তাকে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরদিন তিনি জামিনে বের হয়ে যান।