মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো নির্মম গণহত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু তাঙ্গারা।
গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তিনি এ কথা জানান। সাক্ষাতে মামাদু তাঙ্গারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, গাম্বিয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেছিল এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ও জনগণ এই ন্যায়বিচারের আন্দোলনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে সমর্থন দিচ্ছেন এবং এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা এই বিষয়টিকে আবার বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চাই। অধ্যাপক ইউনূস গাম্বিয়াকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দেশটির অঙ্গীকার ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমরা চাই এই মামলা সফল হোক। আমরা আপনাদের সমর্থন চাই। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সহায়তা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঙ্গারা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক জীবনযাপনে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আপনার ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবসময় আপনার পাশে থাকবে’। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের সাফল্য কামনা করেন। সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা চেম্বারের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথমবার ঢাকা সফর করেছিলেন গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মামাদু তাঙ্গারা।