শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ দাবিতে তাঁদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বিএসইসির এক নির্বাহী পরিচালককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। গতকাল আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে বেলা ১১টায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়। দুপুরের পর সেনাবাহিনী গিয়ে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বাইরে নিয়ে আসেন। কর্মকর্তারা দাবি করেন, চেয়ারম্যান পদত্যাগ না করলে আজ থেকে কর্মবিরতি পালন করবেন তাঁরা। জানা গেছে, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ জারির পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ফ্লোর (পঞ্চম তলা) ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসইসি ভবনের সামনে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বিএসইসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বিএসইসি চেয়ারম্যান কার্যালয় ছাড়ার আগে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা ভবনের কিছু জায়গায় ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁরা বিএসইসি চেয়ারম্যান পদত্যাগ না করলে কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেন। আজ থেকে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কমিশন ভবনে অনানুষ্ঠানিক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিএসইসি অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুর রহমান। এ সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান কমিশন নিয়ে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ কমিশনারদের খারাপ আচরণ, বিভিন্ন কোম্পানির তদন্তের আলোকে কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক শোকজ করা এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ জারি করা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানাই। তবে তাঁরা এ দাবি মেনে নেননি। বরং সেনাবাহিনীকে ভুল তথ্য দিয়ে ডেকে এনে তাঁরা আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর লাঠিচার্জ করিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে পারছি না। তাই আমরা চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করছি।’ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মধ্যে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানের বাধ্যতামূলক অবসরের অবৈধ আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোকজ বন্ধ করতে হবে এবং পূর্বে প্রদত্ত শোকজসমূহ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। ১২৭ জনের নিয়োগের ব্যাপারে কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ এবং তিন দিনের মধ্যে আপিল করে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন, অপেশাদারমূলক দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। চেয়ারম্যানকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।
উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তারা বিএসইসিতে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দায়ী : বিএসইসি চেয়ারম্যান : বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, বিগত দিনের পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অনিয়ম অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১২টি লিস্টেড কোম্পানির বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করে সাতটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিএসইসির কিছু কর্মকর্তার জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর সাইফুর রহমানকে গত ৪ মার্চ অবসরে পাঠানো হয়। এই ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা বিএসইসির চেয়ারম্যান এবং কমিশনারদের কমিশনের বোর্ড রুমের চলমান সভায় জোরপূর্বক ঢুকে অবরুদ্ধ করে। তারা কমিশনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়, সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অরাজক, ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে ও পেশিশক্তি প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে তারা সদ্য যোগ দেওয়া চেয়ারম্যানের পিএস যিনি সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব তাকে লাঞ্ছিত করে। বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিএসইসির কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।