কেউ রঙ করছে। কেউ করছে নতুন স্থাপনা তৈরি। আবার কেউ হরেক রকম রঙে ঢেলে সাজাচ্ছেন হোটেল মোটেল। সবকিছু আয়োজন শুধুমাত্র পর্যটকদের জন্য। ঈদ উল ফিতরের লম্বা ছুটিতে আগত পর্যটকদের বরণে এমন প্রস্তুতি। পর্যটক ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃতি প্রেমিদের আনন্দ দিতে কোন কমতি রাখা হয়নি।
রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিম্বল অব রাঙামাটি আর্থাৎ ঝুলন্ত সেতুকে রঙ তুলির আচরে দেওয়া হয়েছে এক আকর্ষনীয় রূপ। একই সাথে আরও একটি পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সান লাইস ইকো পার্ক নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র। এ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হবে ঈদের দিন। পর্যটকদের জন্য উন্মেক্ত করা হবে পার্ক। সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে বসানো হয়েছে বসার সিট। যাতে প্রকৃতি প্রেমিরা এখানে বসে হ্রদ পাহাড় উপভোগ করতে পারে। একই সাথে এ পাহাড় থেকে দেখা যাবে সূর্যোদয় ও সূর্যোস্তো। এছাড়া এখানে রয়েছে ছোট বড় সবার জন্য আকর্ষণীয় সব বিনোদন সরঞ্জাম।
রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি পর্যটকদের জন্য বাড়তি কিছু করার। আমাদের এখানে আগে থেকে ছিল ঝুলন্ত সেতু। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে সান রাইস ইকো পার্ক। এটা আসলে সুন্দর, দূর থেকে আগত পর্যটকরা এখানে আসলে আনন্দ পাবে। এছাড়া এবার ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আমাদের সবগুলো হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। তাই আশা করছি এবার পর্যটকের ঢল নামবে পাহাড়ে।
অন্যদিকে, শুধু রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স নয়। প্রস্তুত হয়েছে হাইজ বোর্ট মালিক ও বিভিন্ন ইকো রিসোর্ট মালিকরাও। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য নানা রকম আয়োজন করেছে তাদের ইকো ভিলেজে। পাহাড়ে পাহাড়ে গড়ে উঠা ইকো রিসোর্টে রাত্রি যাপনের পাশাপাশি ঘুরে বেড়াতে পারবে মনোরম সৌন্দর্য কাপ্তাই হ্রদে। একই সাথে হাউজ বোটে উপভোগ করতে পারবে চন্দ্র স্নান।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে রাঙামাটিতে। পর্যটকরা যাতে শান্তিতে এখানে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় প্রস্তুত থাকবে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। একই সাথে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। টহলে থাকবে পুলিশের গাড়ি। যাতে কোন রকম কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।