ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লা বিসিকে (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) উৎপাদিত সেমাই বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও জামালপুরসহ ২০-২২টি জেলায় যাচ্ছে। এবার যাচ্ছে দেশের বাইরে মালয়েশিয়া ও ভারতের আসামে। ভবিষ্যতে যাবে সৌদি আরব ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
সূত্র মতে, কুমিল্লা বিসিকের ১০টি কারখানায় সেমাই উৎপাদন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে-খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিল, গাউছিয়া ফুড, আরব সুইটস, সততা বেকারি, মেট্রো কনফেকশনারি, রিয়াজ ফ্লাওয়ার মিল ও মক্কা কনজুমার এন্ড ফুড প্রোডাক্টস প্রভৃতি। কারখানাগুলোতে বাংলা ও লাচ্ছা নামের দুই ধরনের সেমাই উৎপাদন করা হয়।
কুমিল্লা বিসিকের খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে গিয়ে দেখা যায়, মেশিনে বাংলা সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। সেই সেমাই রুমের ভেতরে শুকানো হচ্ছে। ঈদ বাজারের চাহিদা মেটাতে দ্রুত প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। ঘণ্টায় একজন শ্রমিক দুই থেকে আড়াইশ প্যাকেট করছেন। কেউ প্যাকেট, কেউ ওজন, কেউবা মুখ লাগানোর কাজ করছেন। কেউ কার্টনে সেমাই ভরছেন। এদিকে নিচতলায় ভারতের আসামে পাঠানোর জন্য কাভার্ডভ্যানে সেমাইয়ের কার্টন তুলে দেওয়া হচ্ছে।
কারখানার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঈদের অল্প কয়েকদিন বাকি। এখন বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দ্রুত কাজ করতে হচ্ছে। আমরা পণ্যের মান বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।
খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ খন্দকার বলেন, আমরা এক দশক ধরে মানসম্মত উপায়ে সেমাই তৈরি করি। এখানে সেমাই তৈরিতে কৃত্রিম কিছু ব্যবহার করা হয় না। আমাদের বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এখন মালেয়শিয়া ও ভারতের আসামে যাচ্ছে। আগামীতে সৌদি আরব, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে জায়গা কম হওয়ায় উৎপাদন বেশি করতে পারছি না। বেশি জায়গার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
বিসিক কুমিল্লার ডিজিএম মো. মুনতাসীর মামুন বলেন, কুমিল্লা বিসিকের খাদ্য সামগ্রীর সুনাম রয়েছে। তার একটি সেমাই। মান রক্ষায় আমরা নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন করে থাকি। এখানে উৎপাদিত সেমাই ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। আমরা আশা করছি কুমিল্লা বিসিকের পণ্য বিশ্ববাজারের অন্যান্য পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই