বড় ছেলে আসিবুর রহমান খানের সঙ্গে পাঁচ মাস দেখা নেই, এই কথা বলতে বলতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে শুনানি চলাকালে কাঁদেন তিনি। পরে আদালত বাড্ডা থানার রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে শাজাহান খানকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। পরে তার উপস্থিতিতে ১০টা ৮ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। রিমান্ড শুনানি চলাকালে ১০টা ২৭ মিনিটে শাজাহান খান বলেন, মাননীয় আদালত আমি কথা বলতে চাই। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আমি জড়িত না। কেন এই মামলা হলো? শুধু আমার বিরুদ্ধে না, আমার বড় ছেলে আসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তখন কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে পাঁচ মাস আমার দেখা নেই। তখন বিচারক বলেন, আপনার বিষয়ে আইনজীবী কথা বলেছেন। তবুও শাজাহান খান দুই হাত জোড় করে কথা বলার জন্য সময় চান। তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কথা শুনতে হবে, আমাকে একটু সময় দেন।’
ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে টিস্যু দিয়ে দুই চোখ মুছতে থাকেন।
শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ১০টা ৪০ মিনিটে হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আদালত থেকে বের করা হয়। হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি বলেন, পুলিশ বলছে কথা বলা নিষেধ। এটা গণতান্ত্রিক দেশ। আমি সারা জীবন কথা বলে এসেছি, কথা বলেই যাব। পরে হাসতে হাসতে তিনি হেঁটে হাজতখানায় যান।
ফের ৪ দিনের রিমান্ডে শাজাহান খান
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক বাড্ডা থানার রফিকুল হত্যা মামলায় সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৭ মার্চ) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। এদিন আসামিকে আদালতে উপস্থিত করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। অন্যদিকে আসামির রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদল। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই দুপুর ১টায় রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন বিসমিল্লাহ আবাসিল হোটেলের সামনের রাস্তায় আন্দোলন করছিলেন ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৩৭)। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গুলিতে আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ২৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনায় তার মামা মুহাম্মদ লুৎফর রহমান শেখ হাসিনাসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে শাজাহান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড ভোগ করেছেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক বাড্ডা থানার রফিকুল হত্যা মামলায় সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৭ মার্চ) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। আসামিকে আদালতে উপস্থিত করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে আসামির রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই দুপুর ১টায় রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন বিসমিল্লাহ আবাসিল হোটেলের সামনের রাস্তায় আন্দোলন করছিলেন ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৩৭)। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গুলিতে আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ২৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনায় তার মামা মুহাম্মদ লুৎফর রহমান শেখ হাসিনাসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।