সিলেটের ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল ‘খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরী’। তবে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে শিল্পনগরীটির দিকে। উন্নয়ন কাজের জন্য মিলেছে বরাদ্দ। কিন্তু কতিপয় প্লট মালিকের দখলদারির কারণে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে পারছে না বিসিক কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কয়েকজন প্লট মালিক সরকারি জায়গা দখল করে রাখায় সীমানাপ্রাচীরের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিসিকের শিল্পোদ্যোক্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে সিলেটে ‘খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরী’র যাত্রা শুরু হয়। এটি সিলেটের দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী। বর্তমানে শিল্পনগরীটিতে ৭৪টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে ৭১টিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন চালু রয়েছে। চালুর পর থেকে শিল্পোদ্যোক্তারা শিল্পনগরীর চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় আশ্বাস মিললেও এতদিন সেই দাবি পূরণ হয়নি।
সীমানাপ্রাচীর না থাকায় সন্ধ্যার পর স্থানীয় লোকজন ও অপরাধীদেরও অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বিসিক। মাদকসেবীদেরও আড্ডা বসে বিসিকের ভিতর- এমন অভিযোগও পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়। গত কয়েক বছর আগে বহিরাগতদের দ্বারা খাদিম বিসিকে ডাবল মার্ডারের ঘটনাও ঘটে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় খাদিম বিসিক শিল্পনগরী নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বিসিকের ৮টি শিল্পনগরী মেরামত ও পুনর্নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয় খাদিম বিসিক শিল্পনগরীকে। উন্নয়ন কাজের জন্য খাদিম বিসিককে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় বিসিকের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, পুকুর সংস্কার, তিন তলা প্রশাসনিক ভবন, পাম্প কোয়ার্টার ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হয় উন্নয়ন কাজ। সিলেট বিসিক শিল্পনগরীর উপমহাব্যবস্থাপক ম. সুহেল হাওলাদার জানান, বিসিকের ইউরোক্রস, ব্রিটিশ গ্যাস কুকার কোম্পানি, গোল্ডেন হারভেস্ট ও আল রাজি ফুট ওয়্যার নামের চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দকৃত প্লটের বাইরে সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। সামনের দিকে জায়গা দখল করে রাখায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দখল ছাড়ার জন্য তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
উপমহাব্যবস্থাপক আরও জানান, বিসিকের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ প্রবেশপথগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে আটজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ না হলে নিংরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।