পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুনাম রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ইফতারির স্বাদ নিতে অনেকে ছুটে যান চকবাজারে। তবে যানজটের এই শহরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সময়মতো চকবাজারে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে সময়মতো ফিরে আসা অনেক কঠিন। সে কারণে রাজধানীবাসীর সুবিধায় ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) নবমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে পুরান ঢাকার ইফতার বাজার। তবে পুরান ঢাকার মতো এখানে নেই হাঁকডাক-চেঁচামেচি। রয়েছে ধুলা ও ধোঁয়ামুক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। ইফতার শেষে রয়েছে নিজস্ব মসজিদে নামাজ আদায়ের সুবিধা। সব ধরনের সুবিধা এক ছাদের নিচে পেয়ে মুগ্ধ ক্রেতারা। পুরান ঢাকার ইফতারের স্বাদ নিতে গতকাল আইসিসিবিতে এসেছিলেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কবির হোসাইন। তিনি বলেন, এখানে হাইজিন নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। পরিবেশ সুন্দর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ইফতার শেষে নামাজের জন্য মসজিদের ব্যবস্থা রয়েছে। এত সুন্দর পরিবেশের কারণে প্রতি বছর বন্ধুদের নিয়ে এখানে ইফতার করতে চলে আসি। এখানে সময়টা অন্য কোথাও থেকে দারুণ কাটে। ইফতারের জন্য এর থেকে দারুণ জায়গা ঢাকায় পাওয়া দুষ্কর। সব ধরনের খাবার স্বাস্থ্যকর। এক বসাতেই সব খাবার নাগালের মধ্যে পাওয়া যায়।
আইসিসিবির ইফতার বাজারে রমজানের হরেক রকম ঐতিহ্যবাহী ইফতারি মিলছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এক ছাদের নিচে পাওয়া যাচ্ছে ইফতারের নানা ধরনের কাবাব, ডিমের চপ, আস্ত খাসির রোস্ট, খাসির লেগ রোস্ট, হোল চিকেন মুসাল্লাম, চিকেন রোস্ট, মাটন কাচ্চি (বাসমতি ও চিনিগুঁড়া), বিফ তেহারি ও বিফ পাক্কি, নেহারি, ভেজিটেবল, জিলাপি ও রসগোল্লাসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও শরবত। আছে আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, আঙুর, পেঁপে, স্ট্রবেরি, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল ও ফলের সালাদ।
জসিম উদ্দিন কাটারিংয়ের ম্যানেজার হাসান আলী বলেন, আমাদের এখানে হান্ডি কাবাব, মোরগ রোস্ট, তেহারি, মোরগ পোলাও, ডিম চপ পাওয়া যায়। দামও মোটামুটি বাইরের তুলনায় কম। যে কেউ এখানে এসে ইফতার করতে পারবেন এবং নিয়ে যেতে পারবেন।
নাজিলা কিচেন অ্যান্ড কাটারিং ফলসহ বিভিন্ন ইফতারি প্যাকেজে নিয়ে এসেছে। এখানে প্রতি গ্রাম ফল ৬০ পয়সা করে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দই বড়া ৩০০ এবং ৬০০ টাকার পাকেজ রয়েছে।
এই ইফতার বাজারের সব স্টলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট। এখানকার ইফতারের তালিকায় বিরিয়ানি আইটেমের মধ্যে রয়েছে মাটন কাচ্চি বিরিয়ানি (বাসমতি ও চিনিগুঁড়া), মোরগ পোলাও এবং বিফ তেহারি। রোস্ট আইটেমের মধ্যে রয়েছে চিকেন রোস্ট, হোল চিকেন মাসালাম, মাটন লেগ রোস্ট, হোল মাটন রোস্ট। কাবাব আইটেমের মধ্যে রয়েছে চিকেন রেশমি কাবাব, চিকেন হরিয়ালি কাবাব, চিকেন তান্দুরি কাবাব, বিফ শিক কাবাব, চিকেন জালি কাবাব, হোল চিকেন বারবিকিউ, চিকেন সাসলিক, ভেজিটেবল শাসলিক ও পমফ্রেট ফ্রাই। কারি আইটেমের মধ্যে রয়েছে বিফ কালো ভুনা, বিফ গার্লিক, বিফ হান্ডি কাবাব। এ ছাড়া হালিম, নান, লুচি, চপ, পরটাসহ অন্যান্য ট্যাডিশনাল আইটেম তো রয়েছেই।
আইসিসিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন ঢাকার বাসিন্দাদের পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির স্বাদ দিতে প্রতি বছরের মতো এবার নবমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা দিতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। মান যাচাই ছাড়া এখানে কোনো খাবার বিক্রি করতে দেওয়া হয় না। পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং সুবিধা থাকায় অনেকে গাড়ি রেখে ইফতার করছেন এখানে। এ আয়োজন ২৭ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ইফতারের সময় পর্যন্ত চলবে।