রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সবকিছু আগের মতোই আছে। কোথাও ময়লা না নিলে ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেব
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলররা যখন দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন প্রতি রাতেই নগরীর সব রাস্তাঘাট ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে রাখা হতো। এখনো কিছু রাস্তায় রাতে ঝাড়ু দেওয়া হয়। তবে অধিকাংশ রাস্তা থাকছে অপরিষ্কার। নর্দমার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে অধিকাংশ রাস্তা। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় রাজশাহী কোর্ট স্টেশন এলাকার রাস্তায় দেখা যায়, নর্দমার বিশাল ভাগাড়। আরিফুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় তিন মাস থেকে এখানে ময়লা ফেলা হয়। কিন্তু পরিষ্কার খুব একটা হয় না। দুর্গন্ধে এদিক দিয়ে চলাচল করাই কঠিন। এখন সপ্তাহে এক দিনও পরিষ্কার করা হয় না।
পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় নগরীর ঝাউতলা মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আবর্জনার স্তূপ করে রাখা। আমেনা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, আগে বাসার সামনে ময়লা নিতে গাড়ি আসত। এসে বাঁশি বাজাত। এখন কেউ ময়লা নিতে আসে না। তাই সবাই এখানে ময়লা ফেলে। এ কারণে ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু এটা ডাস্টবিন নয়। মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশন থেকে গাড়ি এসে এসব ময়লা নিয়ে যায়, তাও নিয়মিত নয়। শুধু এ দুই এলাকাই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে এমন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় দেখা যায়।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সবকিছু আগের মতোই আছে। কোথাও ময়লা না নিলে ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
আবর্জনার পাশাপাশি নগরজুড়ে বেড়েছে মশা। শহরের রাস্তাঘাট, নদীতীর, অফিস কিংবা বাসা কোথাও শান্তি নেই। সর্বত্রই শুধু মশা আর মশা। নগরবাসী বলছে, আগে মশা নিধনে ফগার মেশিন ব্যবহার করলেও এখন আর তা ব্যবহার হয় না। লার্ভা নিধনের ওষুধও প্রয়োগ হয় না। ফলে মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ মানুষ। নগরীর আলুপট্টি এলাকার মো. সুমন বলেন, মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়ে না। মশার অত্যাচার বেড়েছে। এ কারণে এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও অনেক বেশি ছিল।
রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা বলেন, আমরা লার্ভা নিধনের কীটনাশক নিয়মিত ড্রেনে দিই। ফগার মেশিন ব্যবহার করি না। রমজানের আগে এক সপ্তাহ ফগার মেশিন ব্যবহার করব। মশার প্রজনন মৌসুম হওয়ায় মশা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।