সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারির জন্য এআই টুল তৈরিতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছিল একদল চীনা ব্যবহারকারী। এজন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করেছে ওপেনএআই। টুলটির কোডের ত্রুটি বের করে সম্পাদনা করার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল গ্রুপটি। এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় ওপেনএআই।
চ্যাটজিপিটিকে একটি প্রোগ্রামের জন্য বিক্রয় পিচ তৈরি করতে বলেছিল এই গ্রুপ, যা আসলে ওই প্রোগ্রামটির বাজারজাতকরণ বা বিক্রির উদ্দেশ্যে আকর্ষণীয়ভাবে বর্ণনা করতে সাহায্য করত। বিক্রয় পিচের মাধ্যমে তারা প্রোগ্রামের সুবিধাগুলো ও কার্যকারিতা তুলে ধরতে চেয়েছিল, যাতে এটি ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। এই প্রোগ্রাম আসলে ছিল একটি নজরদারি টুল, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় (যেমন: ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম) চীনা বিরোধী মনোভাব বা প্রতিবাদ শনাক্ত করতে সাহায্য করত। এসব তথ্য চীন সরকারের কাছে পাঠানোই এই গ্রুপের উদ্দেশ্য ছিল।
ওপেনএআই বলেছে, ‘এই নেটওয়ার্ক এমন চ্যাটজিপিটির অ্যাকাউন্টগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ছিল, যেগুলো মূলত চীনের ব্যবসায়িক সময় অনুসরণ করছিল। চীনা ভাষায় মডেলগুলোকে প্রম্পট দেওয়া হচ্ছিল এবং চ্যাটজিপিটির টুলগুলো কোনো স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।’
এই গ্রুপ তাদের সংগৃহীত তথ্যের সঠিকতা যাচাই বা প্রুফরিডের জন্য চ্যাটবটটি ব্যবহার করেছিল। এসব তথ্য চীনা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছিলেন এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
ওপেনএআই-এর প্রধান তদন্তকারী বেন নিমো বলেছিলেন, প্রথমবারের মতো ওপেনএআই এ ধরনের এআই টুল খুঁজে পেয়েছে। এআই মডেল ব্যবহার করার মাধ্যমে ইন্টারনেটের অন্যান্য অংশে তারা কী করছে তা আমাদের সামনে চলে আসে।
নজরদারি টুলটির অধিকাংশ কোড মেটারের এললামা মডেলের একটি ওপেন-সোর্স সংস্করণে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া, এই গ্রুপ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে, চীনের গ্রাহকদের পক্ষে ফিশিং ইমেইল লিখে দিয়েছে।
এছাড়া, ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি একটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে, যা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে চীনা রাজনীতিবিদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী রাজনৈতিক বিজ্ঞানী কাই শিয়া বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরি করছিল। একই গ্রুপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্প্যানিশ ভাষায় প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, যা লাতিন আমেরিকার প্রধান ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলো প্রায়শই কোনো ব্যক্তি বা চীনা কোম্পানির নামে প্রকাশিত হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: এনগ্যাজেট
বিডি প্রতিদিন/আশিক