বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর দুই কিলোমিটার এলাকা পার হতে পণ্যবাহী নৌযানকে তিনটি স্থানে দিতে হয় চাঁদা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আগে আওয়ামী লীগের লোকজন চাঁদা উত্তোলন করত। এখন করে বিএনপির লোকজন। শুধু দলীয় পরিচয় ও হাতের বদল হয়েছে। চাঁদা নেওয়া বন্ধ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করা হয়। কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. সাব্বির আহমেদ বলেন, তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। আমরা মূলহোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বরিশাল নৌ-পুলিশ সুপার নাজমুল হক বলেন, অভিযান চলছে। চেষ্টা করছি চাঁদাবাজি বন্ধে। ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি আবুল হাসেম মাস্টার বলেন, মল্লিকপুর, কালিগঞ্জ ও আলীগঞ্জ এলাকায় ট্রলার নিয়ে চাঁদাবাজি চলে। এ ছাড়া পণ্যবাহী নৌযানগুলো ডাকাতির শিকার হয়। হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ থানা, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা নিই, নিচ্ছি বলে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পণ্যবাহী কার্গোর সুকানি শামীম বলেন, মেঘনা নদীর বরিশালের মল্লিকপুর থেকে আলীগঞ্জ এলাকা পার হওয়ার সময় তিনটি গ্রুপকে বিভিন্ন হারে টাকা দিতে হয়। নইলে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হতে হয়। চাঁদা নেয় তিনটি চক্র। বাল্কহেড মা এন্টারপ্রাইজের সুকানি রিয়াজ বলেন, টাকা না দিলে মারধর করে, মোবাইল ফোন নিয়ে যায়, গালাগালি করে।
অহেতুক মারধর ও গালাগালি থেকে রক্ষা পেতে টাকা দিয়ে চলে যাই। কার্গোর আরেক সুকানি ইব্রাহিম বলেন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কাছে অভিযোগ দিলে কিছুদিন চাঁদাবাজি বন্ধ থাকে। তারপর আবার শুরু হয়। জেলেদের ছদ্মবেশে ডাকাতি করা হয় জানিয়ে ইব্রাহিম বলেন, তারা ২৪ ভল্টের ব্যাটারি, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা নিয়ে যায়। এমনকি নতুন জামাকাপড় থাকলে তাও নিয়ে যায়।