দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যার ঘটনার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো কূলকিনারা পায়নি পুলিশ। তারা বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার যে ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছিল তার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার বা ডিভিআর বক্স গায়েব করা হয়েছে। যা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এটি উদ্ধার হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।
জানা যায়, গত বছরের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিলে মারা যান তামিম। এ ঘটনায় তার বাবা সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর হাতিরঝিল মহানগর প্রজেক্টের রোড-৪, ব্লক-ডি-এর ‘ঝিল আর্কেড’ ভবনের অষ্টম তলার ৭-বি ফ্ল্যাটে ডেভেলপারের মালিকানাধীন অংশে সুলতান আহমেদের বড় ছেলে সামভিল জাহান ইসলাম নির্মাণকাজ করতে গেলে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এতে বাধা দেন। এ সময় তার ভাই তানজিল জাহান তামিমের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সুলতান আহমেদ, তামিমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন। ১০-১৫ মিনিট ধরে কথা বলার একপর্যায়ে তামিম বুকে ব্যথা অনুভব ও অসুস্থ বোধ করেন। তার বাবা সুলতান আহমেদ তাকে ওপরের বাসায় নিয়ে যান। এরপর তাকে মনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ মামলার আসামি নাসরিন আক্তার জানান, আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমার বাবার কেনা ৭-সি ফ্ল্যাটে আমরা দুই বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছিলাম। ঘটনার সময় আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফ্ল্যাটের ভিতরে ছিলাম। তামিমের মৃত্যুর পরপরই তার বড় ভাই সামভিল আমার বাসার দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। আমাদের ওপর আক্রমণসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। যাওয়ার সময় এ ঘটনার মূল আলামত ডিভিআর বক্স লুট করে নিয়ে যান। ওই ডিভিআর বক্সে আমার বাসার ভিতরের ও করিডরের দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের মালিকানাধীন বাইরের ক্যামেরার ফুটেজের অংশবিশেষ প্রচার করা হয়। এ ঘটনার পর আমাকে, আমার স্বামী (মোহাম্মদ মামুন, উপপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর) আমার বাবা এবং আমার দুই ভাইকেও আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার পর আমরা যখন ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্যত্র চলে আসি, তখন সুলতান আহমেদ সেই ফ্ল্যাটটি দখল করে নেন। ইতোমধ্যে ওই ডিভিআরটি উদ্ধারে আমি আদালতে একটি মামলা করেছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের এসআই মো. জাকারিয়া আলম বলেন, এ মামলার তদন্তে অনেক বিষয় সামনে এসেছে, সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেটির ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার বা ডিভিআর সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া এই মামলার সব আসামি জামিনে রয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছি।