বিবাহিত নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার কারণেই খুন হয়েছেন হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নাজিম হোসেন (২১) ও রূপা বেগম ওরফে জান্নাতি (২৩) দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাইফুর রহমানের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয় ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশনে। এদিকে, সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ওই দম্পতি আদালতে দোষ স্বীকার করে গতকাল জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
টাকা-পয়সা রাখার ব্যাগ হারিয়ে কমলাপুরে অসহায় অবস্থায় পড়েন ওই দম্পতি। তাদের অসহায়ত্ব দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। দুজনকে তার বাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান রাজধানীর উত্তরখানের ভাড়া বাসায়। চাকরির কথা বলে নিলেও সাইফুর রহমানের উদ্দেশ্য ছিল ওই নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর আচরণ’ করা। সুযোগ পেলেই যুবককে বাইরে পাঠিয়ে তার স্ত্রীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতেন সাইফুর রহমান। গত রবিবার (১২ মার্চ) রাতে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করলে তার স্বামী প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বঁটি দিয়ে সাইফুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান ওই দম্পতি। পরদিন ফরিদপুর রেলস্টেশন থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি চাবির রিং ও একটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড জব্দ করা হয়। এর আগে নিহতের ফ্ল্যাট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো বঁটি, একটি ধারালো চাকু ও রক্তমাখা জামাকাপড় এবং বিছানার চাদর জব্দ করা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ১০ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া উত্তরখানের পুরানপাড়া বাতান এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলার ছয়তলা ফ্ল্যাটে খুন হন। এ খুনের ঘটনায় তার ছোট ভাই মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ভূঁইয়া উত্তরখান থানায় একটি মামলা করেন।
এদিকে, গতকাল ওই দম্পতিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরখান থানার এসআই জাহিদুল হাসান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে আসামি নাজিম হোসেন ও ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেরিফার জেরিনের আদালতে আসামি রূপা বেগম ওরফে জান্নাতির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।