দেশের প্রথম পাতালরেল হিসেবে মেট্রোরেল লাইন-১-এর নির্মাণকাল ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। যদিও এ প্রকল্পের মূল কাজ এখনো শুরুই হয়নি। তবে পিতলগঞ্জে ডিপো নির্মাণের প্রাথমিক কাজ চলমান। এ ছাড়া এমআরটি লাইন-১ এর অন্যান্য প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩, নতুন বাজার, নর্দা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল ফটক, খিলক্ষেত স্টেশন এলাকায় পরিষেবা লাইন স্থানান্তরের কাজ চলছে। এতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। এসব রুটে চলাচলকারী পথচারী ও এলাকাবাসী কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছে। এরই মধ্যে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় এমআরটি লাইন-১ এর এলিভেটেড অংশ নির্মাণে এক্সপ্রেসওয়ের কিছু কিছু অংশ ভাঙতে হবে। তবে এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ শেষ হলে এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আবার মেরামত করে দেওয়া হবে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রকল্পের পরিচালক আবুল কাশেম ভুইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রকল্পের কাজের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের কিছু জায়গায় ভাঙার প্রয়োজন হবে। এতে করে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ ছাড়া নকশা অনুযায়ী যতটুকু ভাঙতে হবে তাতে এক্সপ্রেসওয়ের তেমন ক্ষতি হবে না। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বাকি ১২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা খরচ করবে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বাস্তবায়নকাল। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেট্রোরেল বা এমআরটি-১ প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৩,৫৯৪.৩৭ কোটি টাকা যা সংশোধিত এডিপিতে কমিয়ে ২,১২৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) মেট্রোরেলের বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি-১ লাইন নির্মাণে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮,৬৩১ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ যা চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। টিএমটিসিএল সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ১২টি প্যাকেজের মধ্যে দরপত্রের কাজ শেষ হয়েছে। ৮৮.৭১ একর ভূমিতে নির্মিতব্য এমআরটি লাইন-১ এর ডিপোর ভূমি উন্নয়নের জন্য কাজ ইতোমধ্যে ৮৭ শতাংশ শেষ হয়েছে।
এমআরটি লাইন-১ চালু হলে এ রুটে প্রতিদিন ৮ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে ২৪ দশমিক ৩০ মিনিট। নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল যেতে সময় লাগবে ২০ দশমিক ৩৫ মিনিট। এমআরটি লাইন-১ এর প্রতিটি পাতাল স্টেশন হবে তিন তলা। টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে প্রথম বেজমেন্টে। প্ল্যাটফরম থাকবে দ্বিতীয় বেজমেন্টে। উড়াল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার এবং প্ল্যাটফরম থাকবে তিন তলায়। যাত্রীদের চলাচলের জন্য উড়াল ও পাতাল-দুই পথের স্টেশনেই থাকবে লিফট, সিঁড়ি ও এস্কেলেটর সুবিধা। স্টেশনগুলোয় পর্যাপ্ত বাতাস ও অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক রাখতে থাকবে অতিরিক্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।