অধরাই থেকে যাচ্ছে অবৈধ মাদক কারবারের মাফিয়ারা। কেউ আড়ালে আবার কেউবা প্রকাশ্যে থেকেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কারবার। আবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তালিকায় থাকা ৮৩ গডফাদারের মধ্যে মাত্র ১২ জনকে গ্রেপ্তার হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের গডফাদারদের মধ্যে বড় একটি অংশ ভিন্ন পেশাজীবী হিসেবে পরিচিত। আবার অনেকের সঙ্গে প্রভাবশালীদের সম্পর্ক থাকায় তাদের নামও তালিকায় উঠছে না।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির কক্সবাজার রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সীমান্তে আমাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত। এটা স্থানীয়রা অনুধাবন করতে পারছেন। বিশেষ করে, মাদক এবং রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিতে একটি ব্যাটালিয়ন হচ্ছে। শিগগিরই এর উদ্বোধন হবে।
ডিএনসি সূত্র বলছে, তালিকায় থাকা ৮৩ গডফাদারের মধ্যে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বিতীয় সারিতে থাকা ১ হাজার ১৮৫ জনের বিপরীতে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর নজরদারি এড়াতে অনেকেই নিজেদের খোলসও পাল্টেছেন। সীমান্তে তাদের ব্যবসার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করতে সহায়তা নিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের। ১৫ অক্টোবর টেকনাফে আশরাফ আলী নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ৩ হাজার ২০০ ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ডিএনসির পরিচালক (গোয়েন্দা ও অপারেশন্স) তানভীর মমতাজ বলেছেন, কক্সবাজার এবং সীমান্ত এলাকাকেন্দ্রিক আমরা পর্যায়ক্রমে দক্ষ কর্মকর্তা পদায়ন করেছি। তালিকায় থাকা কারবারিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত। এর মধ্যে সাফল্যও আসছে।
গডফাদারের তালিকায় যারা : ডিএনসির ৮৩ গডফাদারের মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের সোহেল ওরফে ভূঁইয়া সোহেল এবং মো. সেলিম ওরফে সেলিম সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আরও রয়েছেন পল্লবীর ফাতেমা বেগম ওরফে ফতু, মিরপুর-১ নম্বরের ফতেহ, কলাবাগানের কাহরিয়ার ইসলাম শান্ত, তুরাগের বাউনিয়ার মো. জয়নাল, শাহবাগের আশিকুর রহমান সজল, উত্তর বাসাবোর এহসানুল হক বাপ্পা, ওহাব কলোনির তানিয়া খাতুন, লালবাগের মো. রাশেদ, বনানীর কড়াইল বস্তির কামাল হোসেন, সবুজ আহম্মেদ, গুলশান-১ এর মো. লতিফ, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের মো. হিরা, শেরশাহসুরি রোডের জাহাঙ্গীর হোসেন, সাতমসজিদ হাউজিংয়ের কালু ওরফে দাঁতভাঙা কালু, মহানগর প্রজেক্টের আবুল কালাম ফরাজী, তেজগাঁও শিল্প এলাকার আবদুল আমিন, কেরানীগঞ্জের এ কে এম মোকারিম, গুলশান-১ এর মো. লতিফ, গুলশান-২ এর মো. আলতাফ, ভাটারার নবী হোসেন, চকবাজারের আমান উল্লাহ রতন ওরফে চামারু রতন, কোতোয়ালির গোয়ালনগরের শম্ভুনাথ সুর ও কামরাঙ্গীরচরের খুরশিদা বেগম ওরফে খুশি।
চট্টগ্রাম বিভাগ : কক্সবাজার টেকনাফের আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ সদরের জাফর আলম ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর বাইরে তালিকায় রয়েছেন টেকনাফ সদরের মৌলভি মুজিবুর রহমান, আরিয়াবাদের আবদুল আমিন, আবদুস শুকুর, হ্নীলার জামাল হোসেন, নুরুল হুদা, হোয়াইক্যংয়ের রাকিব আহমদ ও টেকনাফ লেঙ্গুরবিলের সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সোলেমান, পতেঙ্গার ইসমাইল, জসিম উদ্দিন, কর্ণফুলীর মো. তাহের, কোতোয়ালির আকলিমা ও মো. খোকন।
রাজশাহী বিভাগ : গোদাগাড়ীর শীষ মোহাম্মদ, শিবগঞ্জের মো. তারেক, নওগাঁর স্বপন আহম্মেদ, জয়পুরহাটের শান্তিনগরের মো. আতিক।
রংপুর বিভাগ : রংপুর মহানগরের মো. গোলজার আলী, রোকসানা বেগম, দিনাজপুর কোতোয়ালির সেলিনা খাতুন, দিনাজপুর সদরের মাফিজুর রহমান রতন, লালমনিরহাট সদরের লাল সরকার ওরফে পিচ্চি লাল, লালমনিরহাট পৌরসভায় মজিবুল ইসলাম ওরফে মজিদুল মুহুরি, নীলফামারী কিশোরগঞ্জের আনিচুর রহমান (অনিক), মবু মিয়া ওরফে মবু ডাকাত, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর রেজাউল করিম রাজু ও সদরের এমদাদুল হক বাহার।
ময়মনসিংহ বিভাগ : ময়মনসিংহ কোতোয়ালির মোসা. রেহেনা, আকুয়ার মির্জা মাহমুদ ওরফে মাকসুদ ও সুরমা বেগম, নেত্রকোনার দুর্গাপুরের শামীম মিয়া ওরফে শুটার শামীম, জামালপুরের ইসলামপুরের মো. মোশো।
বরিশাল বিভাগ : পটুয়াখালী পৌরসভার মো. সোহেল, বরিশালের কাউনিয়ার শিল্পী বেগম, সদরের মো. পলাশ হাওলাদার ও গৌরনদীর হিরা মাঝি।
খুলনা বিভাগ : খুলনা সদরের সৌরভ সাহা ও যশোরের কোতোয়ালির মোছা. রেখা বেগম।
সিলেট বিভাগ : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের জিয়া উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার আয়লাফ আহমেদ, সিলেটের বড়শলার মো. মামুন, শ্রীমঙ্গলের সাগর রবিদাস, হবিগঞ্জ সদরের সৈয়দ আলী ও মাধবপুরের মো. আলী আকবর এবং সুনামগঞ্জর দিরাইয়ের হেলাল খাঁ। এ ছাড়া পাবনা সদর থানার কমল দাস, বাগেরহাট সদরের মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরা সদরের গডফাদার মনজু বেগম ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আশাদুল হক।