প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গত ছয় মাসে যেভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি কামব্যাক করেছে সেটা মিরাকল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধসে পড়ার (কলাপসড) সম্মুখীন এমন একটি অর্থনীতি পেয়েছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকি ছিল।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ডিজেএফবি টক-এ তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হামিদ-উজ-জামান। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মুহিব। প্রেস সচিব বলেন, ‘সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। নিজের এলাকায় যাওয়ার জন্য উনি কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প নিয়েছেন’। শফিকুল আলম মনে করেন, আরও ১০ বছর পরে এই টানেল হলে ভালো হতো। তখন হয়তো কর্ণফুলীর ওই পাড়ে অনেক কিছু হবে। তিনি বলেন, টানেল এলাকায় সাড়ে চার শ কোটি টাকায় সাত তারকা মানের হোটেল করা হয়েছে, যা অপচয়। প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প করেছে।
অনেক রেলপথ বানিয়েছে, যেখানে দিনে একটি ট্রেন চলে। প্রকল্প খরচ ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পছন্দের লোককে সুবিধা দেওয়ার জন্য এমন করা হয়েছে। বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার হয়েছে। কানাডায় বেগম পাড়া হয়েছে। লন্ডনে ব্লকের পর ব্লক কেনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন অর্থনীতির ‘যক্ষ্মা’ ঠিক করছে, পরে স্বাস্থ্য ঠিক করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গত দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কমেছে। জুন মাসের মধ্যে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। এখন প্রয়োজন জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, এনার্জি খাতে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনা দরকার। স্টেট স্পন্সরশিপ (রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায়) করে ডাকাতি হয়েছে এ খাতে। বিদ্যুৎ খাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছি। বড় বড় পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমরা গ্যাসের জন্য প্রচুর পরিমাণে কূপ খনন করতে চাই।
ব্যাংক খাত নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আমানতকারীরা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এই বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বারবার দিচ্ছেন। আগের সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলে এখন কেউ এক টাকাও ব্যাংকে রাখত না। তিনি আরও বলেন, পতিত সরকারের দুর্নীতির কারণে ট্যাক্স বাড়াতে হচ্ছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, আগের সরকার নাম সর্বস্ব ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছিল। এখন সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল বাংলাদেশ করা হচ্ছে এবং এর ধারাবাহিকতায় বিদেশে বসে জমির মিউটেশনসহ অন্যান্য কাজ করতে পারবেন প্রবাসীরা।
৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণে যে টাকা খরচ করা হয়েছে তা আরও কম টাকায় করা যেত মন্তব্য করে শফিকুল আলম বলেন, আপনার টাকা নাই কিন্তু আপনি মসজিদ করবেন। সরকার কেন মসজিদ করবে? গণমাধ্যমে দেখলাম একটি মসজিদ করতে ১৫-১৬ কোটি টাকা খরচ করেছে। এতে চুরির একটা উৎসব চলেছে। প্রেস সচিব বলেন, সরকার যেসব উদ্যোগ নিচ্ছে তাতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। বাণিজ্য যুদ্ধে বাংলাদেশ বড় সুবিধাভোগী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।