জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণহত্যাকারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গঠিত হয়েছে জুলাই মঞ্চ। গতকাল বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মঞ্চ গঠন করা হয়। এ সময় গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন মঞ্চের প্রতিনিধিরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জুলাই মঞ্চের সদস্য রাকিব হোসেন গাজী, ইঞ্জিনিয়ার টিসিএম চাক, জাবের মাহমুদসহ অন্যরা।
জুলাই মঞ্চের সদস্য আরিফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জুলাইয়ে যারা গণহত্যা চালিয়েছে সেই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এসব সংগঠনের সদস্যদের সর্বোচ্চ বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ফ্যাসিস্টদের বিচার নিয়ে এই সরকার শিথিলতা দেখাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যতদিন পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত না হবে আমরা শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। অভ্যুত্থানের পর থেকেই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি যত দ্রুত সম্ভব ফ্যাসিস্টদের আইনের আওতায় এনে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি ডেভিল হান্টের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারা পতিত শক্তির নিম্ন পর্যায়ের নেতা। শুধু তাদের গ্রেপ্তার করে দায়সারা কাজ করলে হবে না। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত বিচার নিশ্চিত না হবে আমাদের এই সংগ্রাম চলবে।
এ সময় মঞ্চের সদস্য সাকিব হোসাইন বলেন, গণহত্যার জন্য প্রমাণ জোগাড় করার প্রয়োজন নেই। এটা প্রমাণিত সত্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই জুলাইয়ে ২ হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা হত্যা এবং একই সঙ্গে ২৫ হাজারের অধিক মানুষের অঙ্গহানি হয়েছে। সুতরাং ছাত্র-জনতার আদালতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও হাসিনাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলাতে হবে। যতদিন এই বিচার করা না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।