দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করতে ও চলমান ঋণ চুক্তির চতুর্থ-পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় এসে পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সংস্কার ও ঋণের শর্ত পরিপালনের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হবে। প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফরের প্রথম দিনে আজ ব্যস্ত সময় পার করবে। রবিবার সকাল সোয়া ৯টায় অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে প্রথমে বৈঠকে করবে। এরপর পৌনে ১১টায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ওপেনিং সভায় বসবে প্রতিনিধিদলটি। এরপর বিকালে ফিসক্যাল পলিসি নিয়ে অর্থবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে বলে অর্থবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের প্রতিনিধিদলটি ৬ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবে। এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে সফররত আইএমএফের দলটির। এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পায় বাংলাদেশ। একই বছরের ডিসেম্বরে পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে।